২০১৫ সালে গঠিত আইএসএ থেকে সরে দাঁড়াল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু নীতি ও কূটনীতির অঙ্গনে নতুন করে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবিদ ও কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু আন্তর্জাতিক জলবায়ুর লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ক্ষেত্রে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ নয়, গত তিন দশকের ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি বড় ধাক্কা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স থেকে ট্রাম্পের সরে যাওয়ার মধ্যে বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই বড় করে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রসঙ্গত, আইএসএ-র সদর দপ্তর রয়েছে ভারতের গুরুগ্রামে, যেখানে সংস্থার প্রশাসনিক ও কৌশলগত কাজকর্ম পরিচালিত হয়। ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ফ্রান্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের যৌথ উদ্যোগে গঠিত হয়েছিল আইএসএ। এই জোটের মূল লক্ষ্য ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সৌরশক্তি খাতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিকে কম খরচে সৌর প্রযুক্তি সরবরাহ করা। দূষণ না বাড়িয়ে শক্তির চাহিদা মেটানোই ছিল এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের কেন্দ্রীয় ভাবনা।
Advertisement
২০২১ সালের ১০ নভেম্বর জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন আমেরিকা এই সংস্থায় যোগ দিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে সরে দাঁড়ানোর নীতিতে হাঁটছে ওয়াশিংটন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আইএসএ থেকেও বেরিয়ে গেল আমেরিকা। বর্তমানে এই জোটে একশোর বেশি দেশ যুক্ত রয়েছে এবং সৌরশক্তি প্রসারে একাধিক উন্নয়নশীল দেশ আইএসএ-র উপর ভরসা রাখছে।
Advertisement
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর মধ্যে ৩১টি সংগঠন সরাসরি রাষ্ট্রসঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই সংগঠনগুলি আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ পূরণে ব্যর্থ। একইসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকার সামরিক দপ্তরের বার্ষিক বাজেট উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আইএসএ থেকে আমেরিকার সরে যাওয়া বৈশ্বিক জলবায়ু সহযোগিতার ধারণাকে দুর্বল করবে। পাশাপাশি, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে গত ত্রিশ বছরে গড়ে ওঠা কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ভারতীয় সূত্রের বক্তব্য, আমেরিকার প্রস্থান আইএসএ-র কাজকর্মে কোনও প্রভাব ফেলবে না। ভারত দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, এই জোট যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে, তা পূরণ করতেই তারা অবিচল থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সমস্যার মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ছাড়া বিকল্প নেই। সেই জায়গায় আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক স্তরে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
Advertisement



