• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 23 June, 2026

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি সমঝোতার পর স্বাভাবিক হচ্ছে হরমুজ প্রণালী, শুরু হয়েছে জাহাজ চলাচল

রবিবার থেকে সোমবারের মধ্যে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় দু’ডজন জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘মেরিনট্রাফিক’-এর তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, রবিবার থেকে সোমবারের মধ্যে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় দু’ডজন জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে কিছু জাহাজ পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে গিয়েছে আবার কিছু জাহাজ ওই পথ ধরে উপসাগরে প্রবেশ করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা গিয়েছে, ওমান ও পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আবারও জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও হরমুজ প্রণালীর উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরান। তেহরানের বক্তব্য, যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে এই জলপথ আর কখনও ফিরবে না।

এই প্রসঙ্গে শান্তি-আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেন, তিনিই প্রথম ঘোষণা করেছিলেন যে হরমুজ প্রণালী আর কখনও যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে এই কৌশলগত জলপথের দেখভাল ও নিয়ন্ত্রণ ইরানই করবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আমেরিকার উপর ইরানের আস্থা নেই এবং ভবিষ্যতেও তা গড়ে উঠবে না।

তবে সম্ভাব্য উত্তেজনা বা ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে একটি বিশেষ ‘টেলিফোন হটলাইন’ চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, আমেরিকা-সহ অন্য কোনও দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতেরর সময় প্রয়োজনে এই হটলাইনের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে।

উল্লেখ্য,গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অথচ বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবহণ করা হয়। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১১০টিরও বেশি জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করত।

সংঘাতের সময় ইরান কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশ ছাড়া অধিকাংশ দেশের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের বন্দরগুলিতে তেলবাহী জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থান ঠেকাতে নৌ অবরোধ শুরু করে আমেরিকা। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়ে এবং বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়। শান্তি সমঝোতার পর সেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।