• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 18 June, 2026

গুরুদ্বারের ভিতরে গুলি করে খুন শিখ দম্পতিকে, পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

এই হত্যাকাণ্ডের জেরে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পাকিস্তানে একটি গুরুদ্বারের ভিতরে ঢুকে শিখ বৃদ্ধ দম্পতিকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মারদান জেলার বাবু মহল্লা এলাকার খাজা গঞ্জ বাজারে অবস্থিত ঐতিহাসিক গুরুদ্বারটিতে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ৭০ বছরের জগন্নাথ এবং তাঁর স্ত্রী আসমা ওয়ান্তির মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা গুরুদ্বারটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতেন। দর্শনার্থীদের সাহায্য করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্থানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ছিল তাঁদের উপরে।

এক পাক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোতি থানার অন্তর্গত বাবু মহল্লা খাজা গঞ্জ বাজারে গুরুদ্বারটি অবস্থিত। বুধবার সকালে ওই বৃদ্ধ দম্পতি সেখানে যান। অভিযোগ, সেই সময়ে একদল অজ্ঞাত পরিচয় যুবক গুরুদ্বারের ভিতরে প্রবেশ করেন। তারপরই তাঁরা বৃদ্ধ দম্পতিকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। গুলির শব্দ শুনে সেখানে উপস্থিত জনতা এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে শুরু করেন। ওই বৃদ্ধ দম্পতি গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। এরপরই হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ওই দম্পতির মুত্যু হয়। এরপর হামলাকারীরা মোটরবাইকে চেপে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, গুরুদ্বারে সিসিটিভি থাকলেও ঘটনার সময় রেকর্ডিং ব্যবস্থা কাজ করছিল না। নিরাপত্তার জন্য একজন পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকলেও হামলার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।

এই ঘটনার পর পাকিস্তানের শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সেখানকার প্রধান পুরোহিত জ্ঞানী কুলদীপ সিং গর্গাজ। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মহম্মদ সোহেল খান আফ্রিদিকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আর্জি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি কঠোর শাস্তিরও দাবি জানিয়েছেন। বিজেপি-সহ একাধিক সংগঠনও ঘটনার নিন্দা করে পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের জেরে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।