• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

ইমরানের পক্ষে অনলাইন প্রচার, ৮ সাংবাদিক-ইউটিউবারের যাবজ্জীবন

২০২৩ সালের ৯ মে ইসলামাবাদ হাই কোর্ট চত্বরে হাজিরা দিতে গিয়ে আধাসেনা রেঞ্জার্স বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন ইমরান খান।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

জেলবন্দি প্রাক্তন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান ইমরান খানের সমর্থনে প্রচার চালানোর অভিযোগে নজিরবিহীন সাজা ঘোষণা করল পাকিস্তানের সন্ত্রাসদমন আদালত। শুক্রবার আদালত আট জন সাংবাদিক ও ইউটিউবারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। আদালতের মতে, ইমরানের পক্ষে সমাজমাধ্যমে প্রচার ‘সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধ’-এর আওতায় পড়ে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক, অভিযুক্তরা আদালতে অনুপস্থিত থাকলেও বিচারক একতরফাভাবে এই সাজা ঘোষণা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২০২৩ সালের ৯ মে পাকিস্তান জুড়ে যে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল, তার উসকানি দিতে অভিযুক্তরা অনলাইন মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। ওই দিন ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পাক সেনার একাধিক শিবিরে হামলার ঘটনা ঘটে। আদালত সেই সমস্ত ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ’ বলে অভিহিত করেছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৯ মে ইসলামাবাদ হাই কোর্ট চত্বরে হাজিরা দিতে গিয়ে আধাসেনা রেঞ্জার্স বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন ইমরান খান। আদালত চত্বরের বাইরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই সময় পিটিআই কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে রেঞ্জার্স বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ বাধে। ইমরানের দল দাবি করেছিল, গ্রেপ্তারের সময় তাঁকে মারধর করা হয়। এই ঘটনার পরই পাকিস্তান জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সহিংস প্রতিবাদ।

Advertisement

পাক আদালতের দাবি, ওই সময় সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্ট, ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে হিংসায় ইন্ধন জুগিয়েছিলেন দোষী সাব্যস্ত সাংবাদিক ও ইউটিউবাররা। সেই সূত্র ধরেই তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসদমন আইনে মামলা রুজু করা হয়।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২০ ডিসেম্বর তোষাখানা দুর্নীতি–২ মামলায় ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। বর্তমানে দু’জনেই রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি। ইমরানের সমর্থনে প্রচার চালানোয় সাংবাদিকদের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণার ঘটনায় পাকিস্তানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement