• facebook
  • twitter
Thursday, 12 March, 2026

গ্রামে এলপিজি বুকিংয়ের ব্যবধান ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন

সংসদে জানালেন হরদীপ সিং পুরী

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গ্রামাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। যদিও শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আপাতত ২৫ দিনই রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি রুখতেই বুকিং ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। প্রথমে একটি সিলিন্ডার বুক করার ২১ দিন পর দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুক করার নিয়ম ছিল। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়। বর্তমানে শহরে সেই নিয়মই বহাল থাকলেও গ্রামাঞ্চলে দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুক করতে হলে অন্তত ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। গ্রামাঞ্চলে শুকনো কাঠ সহ বিভিন্ন বিকল্প জ্বালানির সুবিধা থাকার জন্য এই সিদ্ধান্ত বলে সূত্রের খবর।

Advertisement

লোকসভায় তিনি আরও বলেন, দেশে পেট্রল, ডিজেল ও কেরোসিনের কোনও ঘাটতি নেই। এলপিজিরও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ভারতের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, যার বড় অংশ আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ওই রুটে পরিবহনে সমস্যা তৈরি হওয়ায় সরবরাহে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর দাবি, ৮ মার্চ কেন্দ্রের নির্দেশিকার পর উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Advertisement

এদিকে চলতি মাস থেকেই রান্নার গ্যাসের দামও বেড়েছে। কলকাতাতে ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম হয়েছে ৯৩৯ টাকা। তার মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস বুকিং ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোথাও বুকিং করা যাচ্ছে না, আবার কোথাও বুকিং করলেও সময়মতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে। গ্যাসের অভাবে বহু হোটেল ও রেস্তরাঁর কাজেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

যদিও কেন্দ্রের দাবি, বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যেই সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। সেই ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। কালোবাজারি ঠেকাতে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পেট্রলিয়ামমন্ত্রী। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিশ্ব আগে কখনও এমন জ্বালানি অনিশ্চয়তার পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। তবু বিকল্প পথ ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আনা হচ্ছে। তাঁর কথায়, দেশে সিএনজি ও এলএনজি সরবরাহেও কোনও ঘাটতি নেই।

Advertisement