• facebook
  • twitter
Sunday, 8 February, 2026

তোষাখানা মামলায় ১৭ বছরের সাজা ইমরান ও তাঁর স্ত্রীর

সম্প্রতি ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ  দাবি করেছে, জেলে ভয়ংকর স্বাস্থ্য সংকটে ইমরান

প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিল পাক আদালত। তোষাখানা মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁদের। গত দু’বছর জেল বন্দি ইমরান খান। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে  জেলে পোরা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। সম্প্রতি ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ  দাবি করেছে, জেলে ভয়ংকর স্বাস্থ্য সংকটে ইমরান। ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এরকম পরিস্থিতি থাকলে ইমরান অন্ধ হয়ে যেতে পারেন বলে মত।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানদের থেকে উপহারসামগ্রী পান ইমরান। সেই সব উপহারসামগ্রী সরকারি ভাণ্ডারে বা তোষাখানায় জমা না করার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বিপুল অর্থের বিনিময়ে তা বিক্রি করা হয়েছে বলেও ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

পাকিস্তানের আইন অনুসারে, বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানদের থেকে পাওয়া উপহার পাক তোষাখানায় জমা করতে হয়। এর আগেও তোষাখানার সামগ্রী বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল ইমরানের বিরুদ্ধে। বিরোধীরা এ নিয়ে একাধিকবার সরবও হয়েছেন। এবার তোষাখানা মামলাতেই ইমরান এবং তাঁর স্ত্রীকে ১৭ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হল।

Advertisement

এর আগে ইমরান ও বুশরা বিবিকে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় (বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারার অধীনে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইমরানের বার্ধক্য ও বুশরার নারী হওয়ার দিকটি বিবেচনা করে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে শাস্তি কম দেওয়া হয়েছে বলে রায়দানের সময় জানানো হয়। শুনানি চলাকালীন আদালতে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন ইমরান। তিনি আগেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলিকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভুয়ো’ বলে দাবি করেছিলেন।

২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তোষাখানা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ইমরান। পাঞ্জাব প্রদেশের অটোক জেলে তাঁকে রাখা হয়। এরপর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ইমরানকে স্থানান্তর করা হয়। গত ৩ বছর ধরে ওই জেলেই রয়েছেন তিনি। কেবল ইমরান নয়, তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবমিলিয়ে ২০০-র বেশি মামলা রয়েছে ইমরানের বিরুদ্ধে।

ইমরান রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি তেহরিক-ই-ইনসাফ-এর নেতাদের দাবি। পিটিআই দাবি করেছে,  মেডিকেল রিপোর্টে অনুয়ায়ী ইমরান খানের ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন রয়েছে। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর ফলে চোখের শিরায় ব্লকেজ তৈরি হয়। এই অসুখের দ্রুত এবং সঠিক চিকিৎসা না হলে ইমরান দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।

Advertisement