পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল। ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের ফলে অন্তত ৬ হাজারের বেশি উড়ান বাতিল হয়েছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লক্ষাধিক যাত্রী বিমানবন্দর ও হোটেলে আটকে পড়েছেন।
শনিবার সকালে ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে বিমান হামলা চালায়। এই হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, কাতার এবং জর্ডন সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখার ঘোষণা করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
Advertisement
পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ওই অঞ্চলের উপর দিয়ে বা ভিতরে উড়ান চালানো স্থগিত রেখেছে। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার প্রধান বিমান সংস্থাগুলি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এমিরেটস সংস্থা একাই প্রায় ৪৮৫টি উড়ান বাতিল করেছে। ইতিহাদ এয়ারওয়েজ বাতিল করেছে ১৯০টি উড়ান, ফ্লাই দুবাই ১৮১টি এবং কাতার এয়ারওয়েজ ১০৬টি উড়ান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
Advertisement
ভারতের বিমান সংস্থাগুলিও এই পরিস্থিতির জন্য যথেষ্ট প্রভাবিত। ভারতীয় সংস্থা ইন্ডিগো ইতিমধ্যে ১২৯টি উড়ান বাতিল করেছে। এয়ার ইন্ডিয়াও ২৮টি উড়ান বাতিল করেছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে দুবাই, আবুধাবি এবং দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াতকারী উড়ানগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত সেখানে ৪৩৫টি উড়ান ছাড়ার কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৯৫টি অবতরণও বাতিল হয়েছে। আবুধাবি বিমানবন্দরেও ১২১টি উড়ান এবং ১২৩টি অবতরণ বাতিল করা হয়েছে। ফলে বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রীদের ভিড় বেড়ে গিয়েছে। অনেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করছেন।
কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং বিমান পরিষেবা পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ধাপে ধাপে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement



