গত মার্চে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ১০০ দফা কর্ম পরিকল্পনার অনুমোদন দেয় সরকার। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে। তবে বিরোধীদের মতে, এর মাধ্যমে কার্যত ছাত্র রাজনীতিকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য, তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের ঢেউয়েই ক্ষমতায় আসীন হন বলেন্দ্র শাহ। সেই প্রেক্ষাপটে ছাত্রদের একাংশের রাস্তায় নামা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, নেপালে ছাত্র রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই গণআন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পিপলস্ মুভমেন্ট অফ নেপাল-সহ একাধিক বড় পরিবর্তনের পিছনে ছাত্র সংগঠনগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
Advertisement
শুধু শিক্ষানীতি নয়, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও চাপ বাড়ছে সরকারের উপর। ভারত থেকে আমদানিকৃত ১০০ টাকার বেশি মূল্যের পণ্যে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, এই নীতি বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই নেওয়া হয়েছে। ফলে দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গিয়েছে। ভারতের সঙ্গে নেপালের উন্মুক্ত সীমান্ত এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক নির্ভরতার কারণে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব আরও বেশি পড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
Advertisement
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরংয়ের বিরুদ্ধে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আর্থিক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
সব মিলিয়ে, একদিকে প্রশাসনিক সংস্কারের চেষ্টা, অন্যদিকে লাগাতার বিক্ষোভ— এই দুইয়ের মাঝে পড়ে বলেন্দ্র সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সমাধান না হলে এই অস্থিরতা ভবিষ্যতে আরও বড় সঙ্কটের আকার নিতে পারে।
Advertisement



