• facebook
  • twitter
Monday, 9 March, 2026

নেপালে বলেন্দ্র শাহর সুনামির মাঝেও জয়ী প্রচণ্ড, হার দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর

তরুণ প্রজন্মের সমর্থন পেয়ে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে আরএসপি

নেপালের সাধারণ নির্বাচনে এগিয়ে বলেন্দ্র শাহর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বা আরএসপি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উঠে আসছে বলেন্দ্র শাহর নাম। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিন জন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী—কে পি শর্মা ওলি, মাধব কুমার নেপাল এবং পুষ্পকমল দহল বা প্রচণ্ড। তাঁদের মধ্যে দু’জন পরাজিত হলেও কোনও মতে জয় পেয়েছেন প্রচণ্ড। অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের সমর্থন পেয়ে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে আরএসপি।

২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত দলটি অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে যে গণবিক্ষোভ শুরু হয়, তা দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের পথ খুলে দেয়। মূলত জেন জি বা নতুন প্রজন্মই এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় এবং সরকারের পরিবর্তনের দাবি তোলে। সেই আবহেই এবারের নির্বাচনে আরএসপির প্রতি বিপুল সমর্থন পেয়েছে।

Advertisement

রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ১৫৬টি আসনের মধ্যে ১২০টির ফল প্রকাশ হয়েছে। তাতেই দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে আরএসপি। সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গিয়েছে দলটি। কাঠমাণ্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহই নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে।

Advertisement

এই নির্বাচনে ঝাপা-৫ আসনে আরএসপির প্রার্থী বলেন্দ্র শাহ লড়েছিলেন চারবারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে। ঝাপা-৫ দীর্ঘদিন ধরেই ওলির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে নতুন প্রজন্মের সমর্থনকে ভরসা করে সেখানে প্রার্থী হন বলেন্দ্র শাহ এবং প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ওলিকে পরাজিত করেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর গণআন্দোলনের চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন ওলি।

এই নির্বাচনে আর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মাধব নেপালও পরাজয়ের মুখ দেখেছেন। রাউতাহাট-১ আসনে তিনি আরএসপি-র প্রার্থী রাজেশ কুমার চৌধুরীর কাছে হেরে যান। অন্যদিকে প্রগতিশীল লোকতান্ত্রিক পার্টির নেতা বাবুরাম ভট্টরাই গোর্খা-২ আসনে মনোনয়ন জমা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন।

তবে তিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একমাত্র জয়ী হয়েছেন প্রচণ্ড। তিনি এবারের নির্বাচনে রুকুম পূর্ব আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। বিভিন্ন নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন আসন থেকে লড়াই করার জন্য প্রচণ্ড পরিচিত। অতীতে তিনি গোর্খা-২, চিতাওয়ান-৩ এবং সিরাহা-৫ আসন থেকেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন নেপালের রাজনীতিতে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তন চাইছে। সেই পরিবর্তনের ঢেউয়ে বহু হেভিওয়েট নেতা পরাজিত হয়েছেন এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটেছে।

Advertisement