• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 28 July, 2026

৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল জাপান, জারি সুনামি সতর্কতা

জাপান আবহাওয়া দপ্তর আফটারশকের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে। সেই সঙ্গে মার্কিন প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, সুনামির ঝুঁকি মূলত স্থানীয় উপকূলবর্তী এলাকাতেই রয়েছে। দূরবর্তী অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল জাপান, জারি সুনামি সতর্কতা

প্রতীকী চিত্র

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুমামোতো প্রদেশ মঙ্গলবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.১। ভূমিকম্পের পরেই কিউশু দ্বীপের একাধিক উপকূলবর্তী এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করে জাপান আবহাওয়া দপ্তর। উপকূলবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

জাপান আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টে ২৭ মিনিট নাগাদ কুমামোতো প্রদেশের উপকূলে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের জেরে সমুদ্রে সর্বোচ্চ এক মিটার উচ্চতার ঢেউ উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দপ্তর।

ভূমিকম্পের পর কিউশু দ্বীপের কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা এবং মিয়াজাকি প্রদেশে ভূমিকম্পের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমুদ্রতট ও নদীর মোহনা সংলগ্ন এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি রুটে রেল পরিষেবা, এমনকী কিছু বুলেট ট্রেনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, সেনদাই ও গেনকাই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনওরকম অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। জাপান আবহাওয়া দপ্তর আফটারশকের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে। সেই সঙ্গে মার্কিন প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, সুনামির ঝুঁকি মূলত স্থানীয় উপকূলবর্তী এলাকাতেই রয়েছে। দূরবর্তী অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে সেখানে প্রায়শই ভূমিকম্প হয়। ২০১১ সালে ৯.০ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই বিপর্যয়ে ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রেও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে এবারও শক্তিশালী কম্পনের পর ২০১১ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি ফিরে এসেছে জাপানবাসীর মনে।