• facebook
  • twitter
Monday, 19 January, 2026

জাপানে রাজনৈতিক চমক, নিম্নকক্ষ ভেঙে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির

এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সংসদে শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পারলে সরকারের নীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে, আর উল্টো ফল হলে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।

ছবি: এএনআই

জাপানের রাজনীতিতে বড়সড় চমক এনে দেশের সংসদের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একই সঙ্গে তিনি আগাম সাধারণ নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ফলে জাপানে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা যেমন বেড়েছে, তেমনই আগামী কয়েক সপ্তাহে দেশজুড়ে তীব্র নির্বাচনী উত্তাপ ছড়ানোর ইঙ্গিত মিলছে।

প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জানান, তিনি শীঘ্রই সংসদের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেবেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটের আয়োজন করা হবে। তাঁর দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা নীতি এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জনগণের স্পষ্ট মতামত জানা জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই তিনি নতুন করে জনগণের রায় নিতে চান।

Advertisement

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নীতির পক্ষে শক্ত জনসমর্থন আদায় করতে চাইছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে মূল্যবৃদ্ধি, কর কাঠামো সংস্কার এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদের পূর্ণ মেয়াদ অপেক্ষা না করে ভোটে যাওয়াকেই তিনি সঠিক পথ বলে মনে করছেন।

Advertisement

জাপানের সংবিধান অনুযায়ী, নিম্নকক্ষ ভেঙে গেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সাধারণ নির্বাচন করাতে হয়। ফলে তাকাইচির ঘোষণার পর প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হতে পারে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই নির্বাচন জাপানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত আয়োজিত আগাম নির্বাচন হতে চলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির এই সিদ্ধান্ত যেমন সাহসী, তেমনই ঝুঁকিপূর্ণ। একদিকে তাঁর দলের ভিতরে এই পদক্ষেপকে নেতৃত্বের দৃঢ়তা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, সরকারের জনসমর্থন কমছে বলেই আগাম নির্বাচনের পথে হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই দাবি করেছে, এই ভোট হবে সরকারের ব্যর্থতার উপর গণভোট।

উল্লেখ্য, তাকাইচি জাপানের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশি ও আন্তর্জাতিক মহলে নজরে রয়েছেন। আগাম নির্বাচনের ফল তাঁর নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সংসদে শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পারলে সরকারের নীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে, আর উল্টো ফল হলে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।

সব মিলিয়ে, নিম্নকক্ষ ভেঙে আগাম নির্বাচনের ঘোষণায় জাপানের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হল। আগামী দিনে ভোটের ফল কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহল।

Advertisement