• facebook
  • twitter
Saturday, 28 February, 2026

আফগান যুদ্ধের আবহে বিশ্বস্তদের খতম করছে পাক গুপ্তচর সংস্থা

একের পর এক রহস্যমৃত্যুতে বাড়ছে জল্পনা

আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাত এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে আইএসআই–এর বিরুদ্ধে নিজেদের পুরনো বিশ্বস্তদের সরিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাকিস্তানের এই গুপ্তচর সংস্থা নাকি এমন বহু ব্যক্তিকে গোপনে খতম করেছে, যাঁরা ধীরে ধীরে তালিবান বা অন্য শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছিলেন।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ২০২১ সালে তালিবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। পাকিস্তান এতদিন যাঁদের উপর নির্ভর করে আফগানিস্তানে নিজেদের প্রভাব বজায় রেখেছিল, তাঁদের অনেকেই এখন আর আগের মতো অনুগত নেই। বরং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁরা নিজেদের অবস্থান বদলাতে শুরু করেছেন।

Advertisement

এই পরিবর্তনের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হল হাজি লালি মামা নুরজাই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইএসআই–এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় তাঁর প্রভাব ছিল ব্যাপক। অভিযোগ, তাঁর তত্ত্বাবধানে বহু জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে উঠেছিল, যেখানে আত্মঘাতী হামলা এবং গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। কিন্তু সম্প্রতি রহস্যজনকভাবে তাঁর মৃত্যু হয়। পাকিস্তানের তরফে প্রথমে এটিকে হৃদরোগে মৃত্যু বলে দাবি করা হলেও, গোয়েন্দা মহলের ধারণা, আসলে তাঁকে আইএসআই-ই গোপনে সরিয়ে দিয়েছে। কারণ, সংস্থার সন্দেহ ছিল যে, তিনি ধীরে ধীরে তালিবানের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছিলেন। পাকিস্তানের পরিবর্তে অন্য শক্তির সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছিলেন।

Advertisement

গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে অন্তত ৪০ জন এমন ব্যক্তিকে গোপনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা একসময় আইএসআই-এর হয়ে কাজ করলেও পরে নিজেদের আনুগত্য বদলে ফেলেছিলেন। এই ব্যক্তিরা সীমান্ত এলাকায় নিজেদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতির পেছনে আরও একটি বড় কারণ হল পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবনতি। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের হামলায় গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই জঙ্গি সংগঠন আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত বহু ব্যক্তির তালিকা তৈরি করেছে এবং তাঁদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এছাড়া, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন এবং তাদের সহযোগীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। লস্কর-ই-তইবা এবং জইশ-ই-মুহাম্মদ–এর মতো সংগঠনগুলির বহু পরিকাঠামো এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর আস্থা কমেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানে তালিবানের নতুন নীতির ফলে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের প্রভাব এখন আর আগের মতো নেই। বরং আফগানিস্তান এখন নতুন কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, যাতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বহু পুরনো সহযোগী নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।

ফলে আইএসআই এখন বড় সংকটে পড়েছে। একসময় যাঁদের উপর ভর করে তারা আফগানিস্তানে নিজেদের প্রভাব বজায় রেখেছিল, সেই ব্যক্তিরাই এখন তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন বা দূরে সরে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইএসআই গোপন অভিযান চালালেও, আগের মতো প্রভাব বজায় রাখা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement