গাজিয়াবাদ পুলিশ সম্প্রতি যে গুপ্তচর চক্র ভেঙে দিয়েছে, তা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। তদন্তে উঠে এসেছে, পাকিস্তানের আইএসআইয়ের মদতে গড়ে ওঠা এই চক্র শুধু দিল্লি বা উত্তর ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তাদের বিস্তার পৌঁছে গিয়েছিল মুম্বাই ও পুণে পর্যন্ত। দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও পরিকাঠামোর ওপর নজর রেখে তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল এই চক্রের মূল কাজ।
তদন্তকারী দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই চক্র মুম্বাইয়ের নৌঘাঁটি, বিমানবন্দর এলাকা ও রেলস্টেশনের মতো সংবেদনশীল জায়গাগুলিতে নজরদারি চালায়। শুধু তাই নয়, ওইসব এলাকায় সৌরশক্তি চালিত সিসিটিভি বসিয়ে সেখানকার সরাসরি দৃশ্য পাকিস্তানে বসে থাকা পরিচালকদের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনাও ছিল তাদের।
Advertisement
এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সুহেল মালিকের জেরা করে জানা গিয়েছে, তিনি বাইরে থেকে সাধারণ দিনমজুর হিসেবে কাজ করলেও আসলে আইএসআইয়ের হয়ে কাজ করতেন। পুণেতে থাকাকালীন তিনি মুম্বাই ও পুণের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গার তথ্য পাঠিয়েছিলেন। পরে গাজিয়াবাদে গিয়ে তিনি এই গোটা চক্রের নেতৃত্ব দেন। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর মুম্বাইয়ে ছিলেন মালিক। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের খোঁজখবর নিয়ে তা বিদেশে পাঠান। চক্রটি ইতিমধ্যেই রেলস্টেশন ও ভিড়ভাট্টার জায়গায় একাধিক সিসিটিভি বসাতে সক্ষম হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
Advertisement
পুলিশ সূত্রে খবর, এই চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল সেনা ছাউনি এলাকা, রেলস্টেশন এবং নিরাপত্তারক্ষীদের চলাচলের ওপর নজর রাখা। বিশেষ করে ভারতীয় রেলের ওপর তাদের বিশেষ নজর ছিল বলে অনুমান। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই চক্র সরাসরি হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত না থাকলেও, তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জোগাড় করে দিচ্ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে হামলার ছক কষা হচ্ছিল বলে সন্দেহ। আইএসআই নাকি আলাদা একটি দল তৈরি করছিল, যারা এই তথ্য ব্যবহার করে হামলা চালাতে পারত।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, প্রতিটি সিসিটিভি বসানোর জন্য সুহেল মালিক প্রায় ৮ হাজার টাকা করে পেতেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে এই নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। এই ঘটনার পর মহারাষ্ট্র সরকার রাজ্যের সমস্ত সিসিটিভি ব্যবস্থার ওপর বিস্তারিত পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি চিনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সিসিটিভি কেনার প্রক্রিয়াও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এখন থেকে নতুন নজরদারি ব্যবস্থা বসাতে গেলে পুলিশি অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই চক্রের বিস্তৃতি অনেকদূর পর্যন্ত ছিল। বিভিন্ন রাজ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই বিষয়টিকে আলাদা কোনও ঘটনা হিসেবে না দেখে, সমন্বিতভাবে তদন্ত চালানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
Advertisement



