দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পথ পেরিয়ে সমঝোতা চুক্তির প্রাথমিক ধাপ পেরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে এই আলোচনার নেপথ্যে শুধু যে কূটনৈতিক কৌশল ছিল তাই নয়, ছিল অন্য এক অভিনব কৌশল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোভাব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন বুঝতে ইরান নাকি দুই জন অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নিয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইটের এক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রথম দফার আলোচনার পর ইরান তাদের উপদেষ্টা টিমে দুই জন মনোবিজ্ঞানীকে যুক্ত করে। তাঁদের কাজ ছিল ট্রাম্পের আচরণ, প্রতিক্রিয়া এবং আলোচনায় তাঁর আচরণ কেমন হতে পারে সেই অবস্থান বিশ্লেষণ করা। সেইমতো ইরানের বার্তা ও আলোচনার কৌশলও সাজানো হয়।
ইরানের এক কর্মকর্তার দাবি, মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ অনুযায়ী, যোগাযোগের ধরন বদলানোর পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। আলোচনাও আরও গঠনমূলক পথে এগোয়। ইরান মনে করছে, কূটনৈতিক বার্তা কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা আলোচনার ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ব্যবসায়িক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সমঝোতার ক্ষেত্রে এখন শুধু রাজনৈতিক অবস্থান নয়, নেতৃত্বের মনস্তত্ত্বও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার আবহে এমন কৌশল নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
প্রায় চার মাস আলোচনার পর দুই দেশ একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সেই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক বাজারও এই অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে। কারণ ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের উন্নতি হলে জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।




