• facebook
  • twitter
Friday, 13 March, 2026

ইরানে আগামী সপ্তাহকে ‘জাতীয় সংহতি সপ্তাহ’ ঘোষণা

সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বার্তার পর দেশজুড়ে ঐক্যের ডাক

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রথম বার্তার পর ইরান সরকার আগামী সপ্তাহকে ‘জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সপ্তাহ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার বার্তা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে এই ঘোষণা করা হয়েছে। সেই বার্তায় ইরানের জনগণের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে বৃহস্পতিবার নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার কৌশল অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরোধ করা ইরানের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। দেশের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ রেজা আরেফ জানিয়েছেন, দেশের জনগণের ঐক্য ও সক্রিয় অংশগ্রহণই ইরানের শক্তির মূল ভিত্তি। নতুন সর্বোচ্চ নেতার বার্তাতেও এই বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

অন্যদিকে, রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা ইরানের ‘স্বাভাবিক অধিকার’। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সমুদ্র আইন অনুযায়ী নৌযান চলাচলের স্বাধীনতার নীতিকে ইরান সম্মান করে এবং তা মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে অঞ্চলে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার জন্য ইরানের আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ দায়ী নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনই এই পরিস্থিতির মূল কারণ।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে তেহরান সহ ইরানের একাধিক শহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সেই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি সহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক আধিকারিক এবং সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে ঐক্য বজায় রাখতে সরকার ‘জাতীয় ঐক্য সপ্তাহ’ ঘোষণার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

Advertisement