• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 5 October, 2026

ট্রাম্পের মেয়াদের পরেও চলতে পারে ইরান যুদ্ধ, সামরিক বিকল্প খোলা রাখছে হোয়াইট হাউস

এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন মধ্যপ্রাচ্য সমন্বয়কারী ব্রেট ম্যাকগার্ক। তাঁর মতে, তেহরানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও সামরিক—দুই পথই খোলা রাখছে ট্রাম্প সরকার

ট্রাম্পের মেয়াদের পরেও চলতে পারে ইরান যুদ্ধ, সামরিক বিকল্প খোলা রাখছে হোয়াইট হাউস

Image: SNS

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donal Trump) মেয়াদ শেষেও ইরানে হামলা চলতে পারে বলে খবর। তাঁর উত্তরসূরিকেও এই সংকটের মোকাবিলা করতে হতে পারে, এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন মধ্যপ্রাচ্য সমন্বয়কারী ব্রেট ম্যাকগার্ক। তাঁর মতে, তেহরানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও সামরিক—দুই পথই খোলা রাখছে ট্রাম্প সরকার।

ম্যাকগার্ক জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছনোর কোনও স্পষ্ট পথ তিনি দেখছেন না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনৈতিক চাপ, মাঝে মধ্যে সামরিক পাল্টা হামলা এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতির মতো পরিস্থিতি চলতে পারে বলে তাঁর অনুমান।

সিএনএনের ফারিদ জাকারিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাকগার্ক বলেন, তাঁর অনুমান, ট্রাম্পের  (Donal Trump) প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সময়সীমা পেরিয়েও এই সংঘাত চলবে এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্টকেও ইরান নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর মতে, জিমি কার্টারের সময় থেকেই প্রায় প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্টকেই (Donal Trump) ইরানের ‘বিপ্লবী ব্যবস্থা’ নিয়ে কোনও না কোনও ভাবে মোকাবিলা করতে হয়েছে।

ম্যাকগার্কের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাসের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য ‘মৌলিক ভাবে’ বদলে গিয়েছে। এরপর ইরানকে ঘিরে একাধিক সামরিক অভিযান হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের পরমাণু পরিকাঠামোয় ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ম্যাকগার্ক বলেন, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন না এলে, অথবা সেই ব্যবস্থা ভেঙে না পড়লে, স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন। তবে এমন পরিবর্তন ঘটতে এখনও অনেক সময় লাগতে পারে বলেই তাঁর মত।

তাই আপাতত দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কাই করছেন তিনি। তাঁর মতে, একদিকে চলবে কঠোর অর্থনৈতিক চাপ, অন্যদিকে মাঝে মধ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা হতে পারে। এর পাশাপাশি সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা অন্তর্বর্তী চুক্তিও হতে পারে।

আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর হামলার ছক! ৯/ ১১-র অনুকরণে পরিকল্পনা, ফ্লাইদুবাই কো-পাইলটের মুখে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও সহজে সমঝোতা হবে না বলে মনে করছেন ম্যাকগার্ক। তাঁর মতে, তেহরানের নীতিনির্ধারকেরা পরমাণু অস্ত্র তৈরির সীমার কাছাকাছি থাকা অবস্থানকেই নিজেদের ‘চূড়ান্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ হিসেবে দেখতে পারেন। ফলে পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন হবে।

অন্যদিকে মার্কিন এনার্জি সেক্রেটারি ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে তাঁকে উপসাগরীয় দেশগুলিতে অতিরিক্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানো এবং তৃতীয় একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ওই অঞ্চলের দিকে পাঠানোর খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। রাইট জানান, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট।

তবে নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিয়েছেন কি না, তা জানাতে রাজি হননি রাইট। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট (Donal Trump)  সবসময় বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেন এবং একই সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যান। কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ একই সময়ে সক্রিয় রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে রাইটের উত্তর, ‘অবশ্যই।‘

দীর্ঘস্থায়ী ইরান সংঘাত মার্কিন প্রশাসনের জন্য জ্বালানি ও রাজনৈতিক—দুই ক্ষেত্রেই চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

রাইট স্বীকার করেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিকাঠামোয় ফের কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তাঁর দাবি, আগামী কয়েক সপ্তাহে পেট্রল ও ডিজেলের দাম কমতে পারে। এর কারণ হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ বৃদ্ধি, আমেরিকায় রেকর্ড পরিমাণ পেট্রল উৎপাদন এবং গ্রীষ্মের গাড়ি চালানোর মরসুম শেষ হওয়ার পর জ্বালানির চাহিদা কমার কথা উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আশঙ্কায় ফের চড়ছে তেলের দাম

ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাবও ইতিমধ্যে স্পষ্ট হচ্ছে। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জন মার্কিন ভোটার মনে করেন, ইরান সংঘাত কোনও না কোনও মাত্রায় আমেরিকায় তেল ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এবিসির উদ্ধৃত কুইনিপিয়াকের একটি জনমত সমীক্ষায় ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার পক্ষে ২৮ শতাংশ এবং বিপক্ষে ৬৬ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছেন। প্রাক্তন নিউ জার্সি গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টিও দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি রিপাবলিকান প্রার্থীদের উপর চাপ তৈরি করছে।

অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সেনেটর মার্ক কেলি, যিনি প্রাক্তন নৌবাহিনীর পাইলট ও মহাকাশচারী, তিনিও প্রশাসনের ইরান নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও কৌশলগত লক্ষ্য বা পরিকল্পনা ছাড়াই শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানো গেলে মার্কিন নাগরিকদের উপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমবে।

কেলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের যুদ্ধ পরিচালনারও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, আমেরিকা ইরানে ১৫ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং এর ফলে সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের মজুতও কমেছে। তাঁর অভিযোগ, কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই আমেরিকা আরও একটি যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং এই যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করতে চায়, তা সাধারণ মানুষকে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

অন্যদিকে লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সেনেটর জন কেনেডিও যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, মূল্যবৃদ্ধির সমস্যা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সময় শুরু হলেও ইরান যুদ্ধের কারণে তা ট্রাম্পের আমলেও আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধের অবসান হলে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামও কমতে পারে।

দেখুুন: