ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যে অভিযোগ তুলে পদ্মাপাড়ের সংখ্যালঘু যুবক দীপু দাসকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার এক অডিও বার্তায় তিনি এই ঘটনার কড়া নিন্দা করে বলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করবই।’ একই সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি দায়ী করেন তিনি।
অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা জানান, দীপু দাস ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে— এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই সংখ্যালঘু যুবককে টার্গেট করা হয়েছে। যেভাবে দীপুকে পিটিয়ে এবং পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা মানবতা বিরোধী বলে মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসিনা প্রশ্ন তোলেন, ‘এরা কি সেই মানুষ, যাদের খাদ্য, শিক্ষা ও মৌলিক অধিকারের ব্যবস্থা আমি করেছিলাম?’ তিনি দীপু দাসের পরিবারকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আশ্বাস দেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি চুপ থাকবেন না।
Advertisement
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কালে বেড়ে চলা হিংসা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কড়া সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, ‘বাংলাদেশে যা চলছে, তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী ইউনূস প্রশাসন। দেশটাকে অরাজকতার পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, তাঁর নির্বাচিত সরকারের পতনের সময় যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল, ইউনূসের শাসনে সেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হাসিনার কথায় ‘হিংসা এখন সেখানে একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তা অস্বীকার করছে, কারণ তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ’।
Advertisement
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভারত-সহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য উদ্বেগজনক বলে বর্তা দিয়েছেন হাসিনা। শেখ হাসিনার অভিযোগ, ইউনূস জমানায় ধারাবাহিকভাবে ভারতবিরোধী বয়ান ছড়ানো হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং চরমপন্থীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। হাসিনার মন্তব্য ‘আজ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, আর সেই পরিস্থিতি তৈরির দায় সরকার এড়াতে পারে না’।
এদিকে দীপু দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনে ভিএইচপি এবং বজরং দলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে ‘হিন্দু হত্যা বন্ধ করো’ স্লোগান দেন এবং দীপু দাস হত্যা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করার দাবি তোলেন। বিক্ষোভ চলাকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুতুলও দাহ করে বিক্ষোভকারীরা।
Advertisement



