দিল্লি, ৫ জানুয়ারি— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার ঘটনার দু’দিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র চিন ও ইরান প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি তুলেছে।
চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির উপর তারা কড়া নজর রাখছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন স্পষ্ট’। চিন স্পষ্ট ভাষায় ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছে, ভেনেজুয়েলার সরকারকে অস্থির করার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। আলোচনার টেবিলে বসেই সমস্যা মেটাতে হবে। প্রসঙ্গত, এর আগেও সপ্তাহান্তে মার্কিন অভিযানের তীব্র নিন্দা করেছিল চিন।
Advertisement
একই সুরে ইরান আরও এক ধাপ এগিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে দেশ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানিয়েছেন, ‘এতে গর্ব করার কিছু নেই। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। ভেনেজুয়েলার জনগণের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের প্রেসিডেন্টকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।’
Advertisement
এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য। ভেনেজুয়েলায় অভিযানের অনুমোদন দেওয়া ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর ইরান সরকার দমন চালালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে। উল্লেখ্য, বর্তমান আন্দোলনের মধ্যে ইরানে একাধিক মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।
এদিকে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলা দখলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রয়েছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী দেশটির বিরুদ্ধে ‘তাৎক্ষণিক ও গুরুতর ঝুঁকি’ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে প্রেসিডেন্টের।
রুবিও আরও বলেন, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার উপর যে তেল-নির্ভর অর্থনৈতিক অবরোধ চলছে, তা ওয়াশিংটনকে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল প্রভাব খাটানোর সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডার রয়েছে ভেনেজুয়েলার মাটিতে। মাদুরোকে আটকের পর ট্রাম্প দাবি করেছেন, নিরাপদ রাজনৈতিক রূপান্তর না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব সামলাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে ঢুকে বিপুল বিনিয়োগ করবে তাদের তেল সংস্থাগুলি।
রুবিওর বক্তব্য, ‘ওই রাষ্ট্রের মূল শক্তি তেলনির্ভর অর্থনীতি। তেলের টাকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয় না, সবই উপরতলার লোকেরা লুঠ করে। সেই কারণেই এই কড়া ব্যবস্থা।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা ঘিরে এই শক্তি প্রদর্শন আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে ফের উপনিবেশবাদী যুগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদুরোর মুক্তি না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মোড় নিতে পারে বলেই আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলের।
Advertisement



