যখন তিনি বিদেশে ছিলেন তখন নিজের দেশে দুর্গাপুজো হচ্ছে জেনেও থাকতে পারতেন না। মনে ছিল সংকল্প। একদিন রাতের অন্ধকার কেটে ভোরের আলো ফুটবেই। সেই বিশ্বাস বাস্তবায়িত হয়েছে। পদ্মাপারের দুর্গাপুজোর ছবি দেখতেন আর মনে চলত আনন্দ করতে না পারার বেদনা। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আঁধার কেটে ধীরে ধীরে আলো ফুটতে শুরু করল। মাঝের কিছুটা সময় অন্তর্বর্তী সরকার চললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অবশেষে এসেই গেল মাহেন্দ্রক্ষণ। বিদেশ থেকে ফিরলেন তারেক রহমান। নিজের দেশে। তারপর প্রধানমন্ত্রী হলেন বাংলাদেশের। এবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম দুর্গাপুজো তারেকের। তাই নিজ ভূমে ঘরে দেখলেন দশভূজার আরাধনা।
মাঝে নিজের মাকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়েছিলেন তিনি। এখন গোটা দেশের ভার তাঁর কাঁধে। মহানবমীতে বাংলাদেশে দুর্গাপুজো পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের রংপুর, রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম তিন জায়গার পুজোমণ্ডপগুলি ঘুরে দেখেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের শাসকদল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, মঙ্গলবার সকালে বিমানে রংপুরে পৌঁন তারেক। সেখানকার রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পুজোমণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে দুপুরে রাজশাহী যান এবং পুজোমণ্ডপ দর্শনের পর জনসভায় যোগ দেন। রাজশাহী থেকে বিমানেই চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। রাতে ঢাকায় ফেরার কথা তাঁর। তারেক রহমান কদিন আগে ঢাকার মহাখালী এবং বনানী পুজোমণ্ডপ পরিদর্শন করেছিলেন। তখন সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে এখন ওপার বাংলায় পরিস্থিতি আগের থেকে অনেক ভাল। সিলেট, রাজবাড়ি, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল-সহ নানা জায়গায় এখন দুর্গাপুজো সাড়ম্বরে হচ্ছে। হাসিনা সরকারের আমলে সেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়েছিল বলে অভিযোগ। এমনকী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের সময় সেটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। হিন্দুদের হত্যা থেকে শুরু করে মন্দিরে নামিয়ে আনা হয়েছিল সাংঘাতিক আক্রমণ। এখন সব থেমে গিয়েছে এমন নয়। তবে তুলনায় অনেক কমে গিয়েছে।
তাছাড়া বাংলাদেশে হিন্দুদের যে দুর্দশা করে ছাড়া হয়েছিল তাতে অনেকেই কাঁটাতার পেরিয়ে এপারে চলে আসতে চেয়েছিল। এখন সেই প্রবণতা কমে গিয়েছে। সম্প্রতি হিন্দু নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান হিসেবে আমার দায়িত্ব। প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমার সাধ্যের মধ্যে যা করা সম্ভব, সেই চেষ্টা আমি করব।’ যেদিন বাংলাদেশে প্রথম পা রেখে সভা করেছিলেন সেদিন তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান।’ সেটাই যেন করে চলেছেন তিনি।




