সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি। নার্গিসকে এই শাস্তি দিল ইরানের আদালত। নার্গিসের আইনজীবী এই খবর জানিয়েছেন। নার্গিসের আইনজীবী মোস্তাফা নিলি জানিয়েছেন, একাধিক অভিযোগে নার্গিসকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে নোবেল জয়ীর শাস্তি নিয়ে মুখ খোলেনি ইরান প্রশাসন । মহিলাদের উপর নিপীড়নের প্রতিবাদে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই ইরান সরকারের বিরুদ্ধে ফের অনশনে বসেছেন নার্গিস।
সোমবার নার্গিসের আইনজীবী মোস্তাফা নিলি জানিয়েছেন, ষড়যন্ত্র ও ষড়যন্ত্রমূলক কাজে যুক্ত থাকার অপরাধে ৬ বছরের কারাদণ্ড এবং সরকারের বিরুদ্ধে ভুয়ো খবর ছড়ানোর অপরাধে আরও এক বছরের কারাবাসের সাজা শোনানো হয়েছে নার্গিসকে। একই সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণের উপরেও দু’বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ৫৩ বছর বয়সি নার্গিস বরাবরই ইরান প্রশাসনের নেকনজরে রয়েছেন।
Advertisement
অভিযোগ, এই সমাজকর্মীকে নানা অছিলায় একাধিকবার হেনস্তা করেছে ইরান সরকার। এ পর্যন্ত মোট ১৫ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন নার্গিস। গত দুই দশকে অধিকাংশ সময়েই জেলে কাটিয়েছেন তিনি। কিন্তু তার পরেও ইরানের মৌলবাদী প্রশাসন তাঁর আন্দোলন দমাতে পারেনি। মানবাধিকারের লড়াইয়ে কারাগারে থেকেও সোচ্চার ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন নার্গিস।
Advertisement
২০২৫-এর ডিসেম্বরে ইরানের পুলিশ ফের নার্গিসকে গ্রেপ্তার করে। এই নোবেলজয়ী সমাজকর্মীর সংস্থা ‘নার্গিস ফাউন্ডেশন’-এর দাবি, প্রয়াত আইনজীবী খোসরু আলিকোরদিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মাশহাদ শহরে গিয়েছিলেন নার্গিস। সেখানই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুধু গ্রেফতার নয়, নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই খবর সামনে আসতেই নিন্দায় সরব হয় গোটা দুনিয়া।
ইরানে মহিলাদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ এবং মানবাধিকারের জন্য লড়াইয়ের কথা সর্বজনবিদিত। মানবাধিকার রক্ষায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতি জানাতে ২০২৩ সালে নার্গিসকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫-এর ডিসেম্বরে চিকিৎসার জন্য তাঁকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারই মাঝে ফের গ্রেপ্তার হন নার্গিস। এবার নার্গিসকে দেওয়া হল সাজা।
Advertisement



