পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার পর্ব অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে জর্ডনে আমেরিকার ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সেই হামলায় দুজন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। এই হামলার পরে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা চালাল আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা(স্থানীয় সময়) নাগাদ আমেরিকা ইরানের উপর হামলা শুরু করে।
সেন্টকম এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছে, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতে কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সময় ইরানের হুমকির মুখে না পড়ে। সেই সঙ্গে জর্ডনে মার্কিন সেনাদের উপরে হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই হামলার সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জড়িত।
Today at 6 p.m. ET, U.S. forces began launching new airstrikes against Iran at the Commander in Chief’s direction. The strikes are designed to further degrade Iran’s ability to threaten commercial shipping in the Strait of Hormuz and swiftly punish Islamic Revolutionary Guard…
— U.S. Central Command (@CENTCOM) July 18, 2026
মার্কিন হামলার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সংঘাত আরও বাড়ানোর চেষ্টা করলে ওয়াশিংটনকে এর পরিণতি ভুগতে হবে। তবে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহরের দাবি, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকার কাছে মার্কিন হামলা হলেও এতে কোনও প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
প্রায় একমাস আগে হওয়া একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ফের বেড়েছে। এরপর থেকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা আরও বেড়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, শুক্রবার জর্ডনে হওয়া হামলায় দুজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আরও একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর এখনও পর্যন্ত মোট ১৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি ৪২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘রক্তের বদলে রক্ত’, ইরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যদের কফিনের ছবি
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে।’ অন্যদিকে, লিখিত এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ প্রমাণ করেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।’ সেই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে আরও বড় মূল্য চোকাতে হবে।’




