• facebook
  • twitter
Monday, 12 January, 2026

আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে গেল ইডি, সিপি-ডিজিকে মামলায় যুক্ত করা হল

ইডি বিরুদ্ধে আরও এক বার রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস

আইপ্যাক মামলার জল গড়াল সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার রাজ্যের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তাতে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা, ডিসি প্রিয়ব্রত রায় ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মামলায় যুক্ত করা হয়েছে বলে খবর। পার্টি করা হয়েছে আরেক কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইকেও। ইডি বিরুদ্ধে আরও এক বার রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

সুপ্রিম কোর্টে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছে ইডি। তাতে ইডি জানিয়েছে, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চলার সময় জোর করে ভিতরে ঢুকে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাও ভিতরে জোর করে প্রবেশ করেন। সঙ্গে ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশবাহিনী। তদন্তকারীদের ভয় দেখানোর পাশাপাশি আটকে রাখারও অভিযোগ তুলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নথি, মোবাইল, হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ কেড়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা, চুরি, ডাকাতি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং প্রমাণ নষ্ট করার মতো অভিযোগ করেছে ইডি।

Advertisement

গত ৮ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দপ্তর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। খবর পেয়ে প্রতীকের বাড়ি এবং অফিসে ছুটে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ফাইলে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নথি আছে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সব ফাইলে নির্বাচনী রণকৌশল রয়েছে। এরপর ইডির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

পুরনো কয়লা পাচার মামলায় তল্লাশি বলে জানায় কেন্দ্রী তদন্তকারী সংস্থা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের কাজে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলে ইডি। তাঁকে সেই কাজে সহায়তা করেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের হয়েছে। একটি ইডি করেছে এবং অপরটি আলাদাভাবে দায়ের করেছেন ইডির তিন অফিসার। দু’টি মামলাই সুপ্রিম কোর্টে গ্রহণ করেছে।

আইপ্যাক মামলায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিল ইডি। গত শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে অত্যধিক ভিড় থাকায় শুনানি পিছিয়ে যায়। ১৪ জানুয়ারি মামলার শুনানি। এরপর বিচারপতি এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান। সুপ্রিম কোর্টে ইডি জানিয়েছে, আদালতের ভিতরে রাজনৈতিক কর্মীদের ঢোকানো হয়েছিল যাতে তাঁরা বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল করতে পারে। ‘মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থকেরা’ বিশৃঙ্খলা তৈরির সঙ্গে জড়িত বলেও দাবি করেছে ইডি।

ঘটনাটির তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছে তারা। মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আবেদন জানানো হয়েছে পাশাপাশি তাঁদের ডিজিটাল ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। যে সব নথি মুখ্যমন্ত্রী সেদিন নিয়ে যান, সেগুলি উদ্ধার করে তা ‘সুরক্ষিত’ করার আর্জিও জানিয়েছেন ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর স্থগিত বা খারিজ করার আর্জিও জানানো হয়েছে। রাজ্য পুলিশ ভবিষ্যতে যাতে ইডির তদন্তে বাধা না দেয়, তা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ছ’বছর ধরে ঘুমন্ত মামলা ভোটের আগে জাগিয়ে তুলেছে ইডি। তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুট করার চেষ্টা হয়েছিল। দলের নেত্রী হিসাবে তা রক্ষা করতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণেই এখন এই সব বলা হচ্ছে।‘  গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘তৃণমূলের চেয়ারপার্সন’ হিসাবেই প্রতীকের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি।

 

Advertisement