• facebook
  • twitter
Monday, 2 March, 2026

গড়বেতায় পরিবর্তন যাত্রায় ভিড় কম, চাপে শুভেন্দুরা

মন্দিরপথে বিজেপি বিরোধী পোস্টার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করলেও গড়বেতায় প্রত্যাশিত সাড়া পেল না ভারতীয় জনতা পার্টি। সভাস্থলে ভিড় ছিল খুবই কম। মাঠের বড় অংশই ফাঁকা দেখা যায়। একই সঙ্গে সভার আগে মন্দিরে যাওয়ার পথে বিজেপি বিরোধী পোস্টার ও ফেস্টুন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায় এলাকায়।

জানা গিয়েছে, পরিবর্তন যাত্রার সূচনা উপলক্ষে গড়বেতার সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দেওয়ার কথা ছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের। কিন্তু তার আগেই মন্দির যাওয়ার পথে দেওয়ালে দেওয়ালে বিজেপি বিরোধী পোস্টার দেখা যায়। তাতে লেখা ছিল, ‘যতই করো পরিবর্তন যাত্রা, এটাই বিজেপির শেষ যাত্রা’। আবার কোথাও লেখা ছিল, ‘বাঁচতে চাই, চলো বিজেপি তাড়াই’। আরও একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘পাপের ঘড়া পূর্ণ, ছাব্বিশে বিজেপি পাবে শূন্য’। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী মন্দিরে না গেলেও ধর্মেন্দ্র প্রধান কয়েকজন সমর্থককে নিয়ে মন্দিরে পুজো দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Advertisement

এ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য অসীম ওঝা। তাঁর দাবি, বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যার ফলে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তন যাত্রাই বিজেপির শেষ যাত্রা হয়ে উঠবে।’ সভামঞ্চে শুভেন্দু অধিকারী ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু না বললেও পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, ‘আগেই ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। পরে চূড়ান্ত তালিকাতেও আরও ৭ লক্ষ ভোটার বাদ পড়েছে। মোট ৬৫ লক্ষ ভোটার বাদ পড়েছে। আরও বহু নাম বিবেচনাধীন রয়েছে।’

Advertisement

অন্যদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর ভাষণে বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ভারতের নির্বাচন কমিশন সঠিক কাজ করেছে। তবে সভায় সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস তেমন দেখা যায়নি। চিরাচরিত স্লোগানের বদলে ‘জয় জগন্নাথ’, ‘জয় মা কালী’ এবং ‘জয় সর্বমঙ্গলা’ ধ্বনি বেশি শোনা যায়। সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদী রাজ্যকে বিপুল অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। কিন্তু সেই অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। এছাড়া গড়বেতার আলু চাষিদের সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাঁদের সরকার ক্ষমতায় এলে চাষিদের কাছ থেকে ভর্তুকি দিয়ে আলু কেনা হবে। কর্মসংস্থান ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও সভা থেকে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

তবে সভার উপস্থিতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, গড়বেতার এই সভায় তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

Advertisement