কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠকের পরেও পুরোপুরি আশ্বস্ত নন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো। পুরুলিয়ায় ফিরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের সংগঠন কী সিদ্ধান্ত নেবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। রাজ্য কমিটির বৈঠক ডেকে আলোচনা করার পরেই সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে।
এর আগে আদিবাসী কুড়মি সমাজের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল, ‘তৃণমূলকে ভোট নয়’। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি বিজেপিকে সমর্থন করা হবে? নাকি অন্য কোনও পথ বেছে নেবে এই সংগঠন? সেই প্রশ্নের জবাব আপাতত খোলা রেখেছেন সংগঠনের নেতৃত্ব।
Advertisement
অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন প্রক্রিয়া চলবে। দাবি পূরণ হলে আগে বার্তা জানিয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচনী বিধি লাঘু হওয়ার পর আমরা রাজ্য কমিটির বৈঠক ডেকে আগামী নির্বাচনে কী সিদ্ধান্ত নেব তা স্থির করব। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’
Advertisement
এদিকে পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে কুড়মি যৌথ মঞ্চের প্রথম জনসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। সেই সভার আগে ছোটনাগপুর কুড়মি সমাজের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অজিতপ্রসাদ মাহাতো। কার্যত কটাক্ষ করেন টাইগার জয়রাম মাহাতোর নেতৃত্বাধীন জঙ্গলমহল লোক কল্যাণ মঞ্চকেও।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যাঁরা ছোটনাগপুর কুড়মি সমাজ গড়েছেন, তাঁরা আগে আমার সঙ্গেই ছিলেন। তাঁরাই আবার জঙ্গলমহল লোক কল্যাণ মঞ্চে রয়েছেন। দু’টি জায়গায় একই সঙ্গে কীভাবে কাজ করবেন, সেটাই প্রশ্ন। ছোটনাগপুর কুড়মি সমাজ কত দিন টিকে থাকবে তা সময়ই বলবে। তবে এই ভাঙন ধরানোর জন্য পুরুলিয়ার আগের পুলিশ সুপার সার্থক ভূমিকা নিয়েছিলেন।’ যদিও বুধবারের জনসভার জন্য শুভেচ্ছাও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘দাবি পূরণের লক্ষ্যেই তো ওই সভা।’
কুড়মি যৌথ মঞ্চ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সভা থেকেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে। ফলে জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে এই সভাকে ঘিরে যথেষ্ট গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে আদিবাসী কুড়মি সমাজ একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি থেকে জানিয়েছিল, নির্বাচনী বিধি লাগু হওয়ার আগে কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্র যদি পদক্ষেপ করে, তবেই তারা বিজেপিকে সমর্থন করবে। তবে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যে আশ্বাস মিলেছে, তাতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন অজিতপ্রসাদ মাহাতো। ঘনিষ্ঠ মহলেও তিনি সেই অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণেই খুব শীঘ্রই ডাকা হচ্ছে রাজ্য কমিটির বৈঠক।
অন্যদিকে, কুড়মি যৌথ মঞ্চের জনসভা সফল করতে প্রস্তুতি প্রায় শেষ। মঞ্চের অন্যতম কর্মকর্তা এবং ছোটনাগপুর কুড়মি সমাজের প্রধান উপদেষ্টা সুজিত মাহাতো বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। এর বেশি এখন কিছু বলব না।’
জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক মহল বলছে, কুড়মি যৌথ মঞ্চের কাছে এই সমাবেশ বড় পরীক্ষা। এই মঞ্চে ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ ছাড়াও রয়েছে পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজ এবং বাইসি কুটুম। কুড়মি জনজাতিকে আদিবাসী তালিকাভুক্ত করার দাবিকেই সামনে রেখে এই বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
Advertisement



