কলকাতায় অবস্থান নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মেট্রো চ্যানেলে তৃণমূলের ধরনা মঞ্চ থেকে তিনি অভিযোগ করেন, কলকাতায় হাজার হাজার হোটেল থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এমন একটি হোটেলে উঠেছে, যেখানে সাধারণত ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতারা অবস্থান করেন।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বলেন, ‘কলকাতায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার হোটেল রয়েছে। মোট ঘরের সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বা বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা কলকাতায় এলে যে হোটেলে থাকেন, নির্বাচন কমিশনের সদস্যরাও সেই একই হোটেলে উঠেছেন। এটা নিছক কাকতালীয় হতে পারে না।’
Advertisement
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচন কমিশন বর্তমানে কার্যত বিজেপির সহায়ক সংস্থার মতো কাজ করছে। তাঁর দাবি, বিজেপির নির্দেশেই বাংলার প্রায় ৬০ লক্ষ ৭ হাজার ভোটারের নাম জোর করে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ রাখা হয়েছে, যাতে আসন্ন নির্বাচনে তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম দিনেই বলেছিলাম, এই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। এরা দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ১০ কোটি বঙ্গবাসীকে একজোট হতে হবে।’
Advertisement
অভিষেকের দাবি, সংশয়ে রাখা ওই ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষের পরিচয় ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত। তাঁর কথায়, ‘২০০২ সালের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের বাবা-মা বা পূর্বপুরুষের নাগরিকত্ব নথিভুক্ত রয়েছে। যাঁদের নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠিত, তাঁদের ভোটাধিকার কোন আইনের ভিত্তিতে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে?’ তিনি আরও বলেন, এই প্রশ্নগুলির সন্তোষজনক উত্তর না পেলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে তাঁর দল। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, তৃণমূলের চাপের ফলেই নির্বাচন কমিশন এসআইআর শুনানির কেন্দ্র বৃদ্ধি, তথাকথিত যুক্তিগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ এবং বিএলএ-টু অনুমোদনের মতো কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
এছাড়াও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ চক্রান্তের অভিযোগও তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দিল্লির এক উচ্চপদস্থ আমলা তাঁকে সতর্ক করেছেন যে, গরিব মানুষের ব্যাঙ্ক হিসাবের টাকা আত্মসাৎ করার একটি বড় ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে অনেককে ব্যাঙ্কে পরিচয় যাচাইয়ের সময় ভোটার পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হতে পারে। আর তা না পারলে হিসাব স্থগিত করার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূলের এই নেতা। ‘ভাইপো’ ও ‘পরিবারতন্ত্র’ প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অমিত শাহের পুত্র জয় শাহ কীভাবে বিসিসিআই অর্থাৎ ভারতের ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সচিব এবং পরে আইসিসি বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হয়েছেন। অভিষেকের দাবি, ‘আমি ২০১৪, ২০১৯ এবং পরে বিপুল ভোটে জিতেছি। কিন্তু আপনার ছেলে কোন পরীক্ষার মাধ্যমে ওই পদে পৌঁছেছেন, তা দেশবাসীকে জানানো উচিত।’
শেষে অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘সংসদে এমন একটি বিল আনুন, যেখানে লেখা থাকবে এক পরিবার থেকে একজনের বেশি কেউ রাজনীতি করতে পারবে না। সেই বিল এলে আমি নিজে ভোট দিয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
Advertisement



