• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 28 June, 2026

প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সিকিম, আটকে পর্যটকরা, বাড়ছে উদ্বেগ

একটানা প্রবল বৃষ্টি হড়পা বান ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে গিয়েছে একাধিক রাস্তা।

প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সিকিম, আটকে পর্যটকরা, বাড়ছে উদ্বেগ

একটানা প্রবল বৃষ্টি হড়পা বান ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে গিয়েছে একাধিক রাস্তা। ভেসে গিয়েছে সেতু। বিপর্যয়ের জেরে আটকে পড়েছেন শতাধিক পর্যটক। আটকে পড়া পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধারের জন্য নেমেছে সেনা। প্রবল বৃষ্টির কারণে উত্তর সিকিমের একাধিক জায়গা এই মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বলে খবর। নদীর চেহারা নিয়েছে রাস্তা। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে বয়ে চলেছে প্রবল জলের স্রোত। প্রতিবেশী ভুটানের পরিস্থিতিও খুব খারাপ। অতি ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ভুটানের একাধিক এলাকা। ভারত-ভুটান সীমান্তের ফটক এলাকা প্রায় এক ফুট জলের নিচে। সিকিম, ভুটান থেকে জল ঢুকতে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই তিস্তা, তোর্সা-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক নদীর জল বেড়েছে।

শনিবার রাত থেকে একটানা ভারী বৃষ্টি চলছে উত্তর সিকিমে। জংগু এলাকার ফিডাংয়ে জলের তোড়ে ‘ফি খোলা’ নদীর উপর থাকা বেইলি ব্রিজ ভেসে গিয়েছে। ফলে সড়কপথে জংগুর সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। রাস্তা না থাকায় জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পথও বন্ধ হয়েছে। উত্তর সিকিমের তারামচু এলাকায় চুংথাং-লাচেন সড়কে ভূমিধস নামায় আটকে পড়েছেন  প্রচুর পর্যটক। পর্যটকদের উদ্ধারে রাতেই সক্রিয় হয় সেনাবাহিনী। পর্যটকদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনার পাশাপাশি ডনকিয়ালা-লাচুং হয়ে বিকল্প পথে যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে সেনা। উদ্ধার কাজে নেমেছেন সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পসের জওয়ানরাও।

সিকিম প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ফি খোলার বেইলি ব্রিজ ভেসে যাওয়ায় ফিডাং–সঙ্কলং সড়ক বন্ধ রয়েছে। তারামচুতে ভূমিধসের কারণে  চুংথাং–লাচেন সড়কও অবরুদ্ধ। সিংতাম–দিকচু সড়ক এবং মঙ্গন–গ্যাংটক সড়কও বন্ধ রয়েছে। একের পর এক সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা। পরিস্থিতির কারণে পর্যটকদের সিকিম পর্যটন দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে যাতায়াতের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ভুটানের একাংশও। ফুন্টশোলিংয়ের তোর্সা হাউজিং কলোনি প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই নিচু এলাকা থেকে বেশ কিছু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে ভুটান পুলিশ। ভারত-ভুটান সীমান্তের ফটক এলাকাও জলমগ্ন। হড়পা বানের জলের সঙ্গে ভেসে আসা আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষের জন্য ফুন্টশোলিং-থিম্পু ডাতীয় সড়কও অবরুদ্ধ হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, বুধবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি চলবে। পরবর্তী ক্ষেত্রে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমবে।