• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 10 August, 2026

বার বার বাদ পড়ছেন মহম্মদ শামি, এ বার কী করবেন? কী পরামর্শ দিলেন জাহির খান?

নির্বাচকদের দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা না করে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের দাবি জিইয়ে রাখার বার্তাই শামিকে দিয়েছেন জাহির। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ম্যাচ খেলে নিজেকে প্রস্তুত রাখাটাই আপাতত তাঁর হাতে থাকা সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

বার বার বাদ পড়ছেন মহম্মদ শামি, এ বার কী করবেন? কী পরামর্শ দিলেন জাহির খান?

Photo: ANI

ভারতীয় দলে ফেরার দরজা বার বার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো খেলেও নির্বাচকদের ভাবনায় জায়গা হচ্ছে না মহম্মদ শামির। এমনকি একের পর এক চোটে জর্জরিত ভারতীয় দলের পেস আক্রমণেও শামির নাম সে ভাবে আলোচনায় আসছে না। এই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ পেসারকে কিছু পরামর্শ দিলেন ভারতের প্রাক্তন তারকা পেসার জাহির খান।

২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে ভারত। চোটের কারণে জসপ্রীত বুমরাহকে নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যেও নির্বাচকদের পরিকল্পনায় শামির প্রত্যাবর্তনের কোনও ইঙ্গিত নেই। ২০২৩-এর পর থেকে টেস্টেও ভারতের হয়ে আর খেলেননি তিনি।

এই পরিস্থিতিতে শামির কী করা উচিত? প্রশ্নের জবাবে জাহির বলেন, ‘তুমি কী ভাবে এগোতে চাও, সেটা তোমার সিদ্ধান্ত। তুমি যদি ম্যাচ খেলো এবং ভাল পারফর্ম করো, তা হলে তুমি নির্বাচনের জন্য বিবেচিত হবে। আমি বিষয়টাকে এ ভাবেই দেখি’।

ভারতীয় দলের ভাবনা এখন অন্য রকম হতে পারে বলেও মনে করেন জাহির। তবে তাঁর মতে, শামির নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলির উপরেই নজর দেওয়া উচিত। প্রাক্তন তারকা পেসার জাহিরের কথায়, ‘দলের ভাবনা আলাদা হতে পারে, কিন্তু তোমার নিজের ভাবনাটাও গুরুত্বপূর্ণ। তুমি যদি অবদান রাখতে চাও, সেটা তোমার সিদ্ধান্ত। দল বিষয়টাকে কী ভাবে দেখছে বা তাদের পরিকল্পনায় কী চলছে, সেটা বিশ্লেষণ করা যায়। কিন্তু তুমি তাতে কী ভাবে অবদান রাখবে? একজন ক্রিকেটার হিসাবে শামি যা করছে, সেটাই করা উচিত। সে খেলছে। তুমি যেমন বললেন, সে ম্যাচ খেলছে। সেটাই গুরুত্বপূর্ণ’।

অর্থাৎ নির্বাচকদের দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা না করে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের দাবি জিইয়ে রাখার বার্তাই শামিকে দিয়েছেন জাহির। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ম্যাচ খেলে নিজেকে প্রস্তুত রাখাটাই আপাতত তাঁর হাতে থাকা সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

এ দিকে ভারতীয় শিবিরে একের পর এক চোট নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল জাহিরকে। জসপ্রীত বুমরাহ ছাড়াও ওয়াশিংটন সুন্দর, বি সাই সুদর্শন, রোহিত শর্মা, হার্দিক পাণ্ড্যদের চোট-ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জাহির অবশ্য মনে করেন, ‘চোট খেলারই অঙ্গ। প্রত্যেক ক্রিকেটারের জীবনেরও অঙ্গ। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কথা বলা যায়, কিন্তু কখন কী ঘটনা ঘটছে, সেই সময়টাও বুঝতে হবে। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে’।

বিশেষ করে পেসারদের ক্ষেত্রে চোটের মূল কারণ খুঁজে বের করার উপর জোর দিয়েছেন জাহির। তাঁর বক্তব্য, ‘কোনও ফাস্ট বোলার চোট পেলে বা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেলে, নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ না সমস্যার মূল কারণ জানা যাচ্ছে, ততক্ষণ সামনে এগোনো সম্ভব নয়’।

শামির ক্ষেত্রে তাই আপাতত বার্তাটা পরিষ্কার—দলে ডাক আসছে না বলে থেমে গেলে চলবে না। ম্যাচ খেলতে হবে, উইকেট নিতে হবে, পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নির্বাচকদের ভাবতে বাধ্য করতে হবে। জাহিরের পরামর্শে অন্তত সেই পথটাই খোলা থাকল অভিজ্ঞ ভারতীয় পেসারের সামনে।