• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 4 August, 2026

সিংহাসনে-হারা হতে পারেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো! নয়া সভাপতির দৌড়ে কারা এগিয়ে?

উয়েফা ইনফান্তিনোকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল— স্বচ্ছতার সঙ্গে ফিফা পরিচালনা করা এবং ফিফার তহবিলকে সদস্য দেশগুলির সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা।

সিংহাসনে-হারা হতে পারেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো! নয়া সভাপতির দৌড়ে কারা এগিয়ে?

Photo: X

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার অন্দরমহলে ক্ষমতার সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। আগামী ২০২৭ সালের সভাপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনাকে ঘিরে একাধিক জাতীয় ফুটবল সংস্থা সমর্থন প্রত্যাহার করায় তাঁর জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। তাই আগামী বছর তাঁর ফের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পথ আর আগের মতো মসৃণ নেই।

এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই সামনে আসতে শুরু করেছে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের নাম। ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা, এশিয়া— একাধিক মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার প্রভাবশালী কর্তারা আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁরা কারা? আলাপ করে নিন তাঁদের সঙ্গে। হয়তো এঁদের মধ্যে কাউকেই দেখতে পাবেন শতবর্ষের বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজকের ভূমিকায়।

আলেকসান্দার চেফেরিন

উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিনকে অনেকেই ইনফান্তিনোর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন। ফিফার সাম্প্রতিক নীতির অন্যতম কড়া সমালোচক তিনি। ইউরোপীয় ফুটবল মহলে তাঁর প্রভাব যথেষ্ট। সম্প্রতি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনাকে ‘জঘন্য চক্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টাও করছেন চেফেরিন। তিনি প্রার্থী হলে বড় সমর্থন পেতে পারেন।

ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি

কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানির নামও জোরালো ভাবে আলোচনায় রয়েছে। ইনফান্তিনোর প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানালেও তিনি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী অবস্থান নিয়েছেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন মহাদেশীয় সংস্থার সঙ্গে সুসম্পর্ক তাঁর বড় সম্পদ।

শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমানও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। ফিফার প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য প্রশ্ন তোলার ঘটনা রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নাসের আল-খেলাইফি

প্যারিস সাঁ জার্মাঁর সভাপতি নাসের আল-খেলাইফির নামও ঘুরে বেড়াচ্ছে ফুটবল মহলে। ইউরোপের একাধিক প্রভাবশালী মহল তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে খবর। যদিও তিনি এখনও সরকারি ভাবে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দেননি।

লিসে ক্লাভেনেস

নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস-কে সংস্কারপন্থী মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বচ্ছতা, মানবাধিকার এবং সুশাসনের প্রশ্নে তিনি বরাবরই সরব। ফলে পরিবর্তনের হাওয়া জোরদার হলে তাঁর নামও গুরুত্ব পেতে পারে।

আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোয় ফিফার সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। এখনও অনেকটা সময় বাকি থাকলেও বিশ্ব ফুটবলের ক্ষমতার লড়াই ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক পরিকল্পনা, যা নাকি তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে করেছিলেন বলে অনেকে বলছেন, সেই পরিকল্পনার জন্যই তিনি ডুবতে বসেছেন বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারনা।

অভূতপূর্ব চাপে পড়েছেন ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর গত শনিবার ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান ফুটবল সংস্থা (কনকাকাফ) জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর তাঁর নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখতে পারছে না।

ইনফান্তিনোর ৪২০ কোটি ডলারের (৪.২ বিলিয়ন) বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাহারের পর বিশ্ব ফুটবলে তাঁর নেতৃত্বের ধরন নিয়ে দীর্ঘদিনের অস্বস্তি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা এই সমালোচনার নেতৃত্ব দিয়েছে, যা আগামী ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনাকে কঠিন করে তুলতে পারে।

ফিফার প্রস্তাবটি ছিল একটি নতুন সংস্থা গঠন কর হবে, যারা বিশ্বকাপ-সহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনা করবে। সেই সংস্থার অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা নিয়েই তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলির অভিযোগ, ইনফান্তিনো তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই এই পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। প্রস্তাব প্রত্যাহারের পর উয়েফা একে ‘সমগ্র ফুটবল বিশ্বের জয়’ বলে অভিহিত করেছে। তবে একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, ‘ফিফার প্রতি আস্থা ফেরানোর কাজ এখন সবে শুরু হয়েছে’।

এক বিবৃতিতে উয়েফা বলেছে, ‘বর্তমান ফিফা নেতৃত্ব শুধু উয়েফার আস্থাই হারায়নি, ফুটবল পরিবারের আরও অনেক সদস্যের বিশ্বাসও হারিয়েছে। গোপনে পরিকল্পনা তৈরি করে, তড়িঘড়ি তা কার্যকর করার চেষ্টা— যার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা অজানা, আর ফুটবলের প্রকৃত উপকারিতা নিয়েও যার গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এই পরিকল্পনার জন্য কারা দায়ী, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে এবং জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে’।

এই ঘটনার জেরে ফিফার সভাপতি হিসেবে আরও একবার নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নেওয়া জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থন নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

উয়েফা ইনফান্তিনোকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল— স্বচ্ছতার সঙ্গে ফিফা পরিচালনা করা এবং ফিফার তহবিলকে সদস্য দেশগুলির সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা।

উয়েফা তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই দুই প্রতিশ্রুতির কোনওটিই তিনি রক্ষা করতে পারেননি। পর্দার আড়ালে তৈরি হওয়া, অস্বচ্ছ এবং গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে তিনি যে পরিকল্পনা করেছিলেন এবং তা জোর করে কার্যকর করার চেষ্টা করেছিলেন, তা স্বচ্ছতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ফিফার রিজার্ভ তহবিলে ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ থাকা সত্ত্বেও, তিনি সদস্য সংস্থাগুলির সেই অর্থ ফুটবলের উন্নতির স্বার্থে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছেন’।

বিশ্বজোড়া এই নিন্দার ঝড় সামলে ইনফান্তিনো যদি ফিফার সর্বোচ্চ পদে থেকে যেতে পারেন, তা হলে তা হবে বিস্ময়কর।