• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

জেলার ফুটবলারদের অন্বেষণ কোথায় বেঙ্গল সুপার লিগে?

বিভিন্ন দলের কোচ নির্বাচন ও ফুটবলার চয়েসের মধ্যে নির্দিষ্ট ও স্বাভাবিক যোগসূত্র থেকেছে। কোনও দলেই নির্দিষ্ট জেলার প্রতিভাবান ফুটবলারের দেখা মেলেনি।

এখনও পর্যন্ত বেঙ্গল সুপার লিগের ৬১টা ম্যাচের মধ্যে ২৮টা ম্যাচ হয়ে গেল। এই ২৮টা ম্যাচের মধ্যে ২২টা ম্যাচের ফয়সালা হয়েছে। আর ৬টা ম্যাচ ড্র হয়েছে। প্রথম ১৮টা ম্যাচের মধ্যে ১৬টা ম্যাচের ফয়সালা হয়েছে। যার অর্থ, প্রথম দিকের প্রায় ৯০ শতাংশ ম্যাচের ফয়সালা হয়েছে। শেষ ১০টা ম্যাচের মধ্যে মোট ৬টা ম্যাচের ফয়সালা হয়েছে। শেষ ৫ দিনে, ৬০ শতাংশ ম্যাচের ফয়সালা হলো। অর্থাৎ জয়ের ধারা এই পর্যায়ে, ৩০ শতাংশ কমে গেছে। প্রথম ১৮টা ম্যাচে ৪৬টা গোল হয়েছে। ম্যাচ প্রতি গোল সংখ্যা গড়ে ২.৫-এর সামান্য বেশি ছিল।

শেষ ১০ ম্যাচে ২০টা গোল হয়েছে। যার গড় ২.০ হয়েছে। অর্থাৎ ম্যাচ প্রতি গোল সংখ্যা ম্যাচ ফয়সালার সঙ্গে সঙ্গেই শেষদিকে কমেছে। লিগের ২৮টা ম্যাচে ৬৬টা গোল হয়েছে। রবি হাঁসদা ৫টা গোল করে গোলদাতার শীর্ষে আছে। কোচ জোসে ব্যারেটোর শক্তিশালী হাওড়া-হুগলি ওয়ারির্স ইতিমধ্যে ৭ ম্যাচে ১১টা গোল খেয়েছে। নামকরা গোলকিপার অভিলাষ পাল তাদের দলের হয়ে খেলছে। লিগের শক্তিশালী দুই দল যথাক্রমে মালদা-মুর্শিদাবাদের জেএইচআর রয়্যাল সিটি ও সুন্দরবন বেঙ্গল অটো এফসি শেষ তিন ম্যাচে মাত্র ১টি করে গোল করতে পেরেছে।

Advertisement

বর্ধমান ব্লাস্টার্স প্রথম ৪ ম্যাচে মাত্র ২টো গোল করলেও, শেষ ২ ম্যাচে তারা ৭টা গোল করে সকলকে চমকে দিয়েছে। লিগ টেবিলের প্রথম দুই দল জেএইচআর রয়্যাল সিটি শেষ দুটো ম্যাচে জয় পায়নি। রয়্যাল সিটি দুটো ম্যাচ ড্র করেছে এবং সুন্দরবন বেঙ্গল অটো শেষ দুটো ম্যাচেই হেরে গেছে। এই সময়ে লিগ টেবিলের নীচের দিকে থাকা বর্ধমান ব্লাস্টার্স পরপর দুটো ম্যাচ জিতেছে। লিগের শক্তিশালী হাওড়া-হুগলি দলকে তারা ৪-১ গোলে হারিয়ে দেয়। শেষ তিন ম্যাচে এফসি মেদিনীপুর ৭ পয়েন্ট পেয়ে সকলের নজর কেড়েছে। প্রথম ৪ ম্যাচে তাদের মাত্র ১ পয়েন্ট ছিল। বর্ধমান ও মেদিনীপুরের দলে খেপের মাঠের পরিচিত বিদেশি ক্রিস্টোফার, লব ও কুশরা দলে যোগ দিয়েছে। লিগের ৬টা দলের মধ্যে সুন্দরবন দলে ডায়মন্ড হারবার এফসির, নর্থ ২৪ পরগনার দলে ইউনাইটেড স্পোর্টস, নর্থ বেঙ্গল দলে ক্যালকাটা কাস্টমস ও কোপা বীরভূম দলে অ্যাডামাস ইউনাইটেডের ফুটবলাররা গুরুত্ব পেয়েছে।

Advertisement

বিভিন্ন দলের কোচ নির্বাচন ও ফুটবলার চয়েসের মধ্যে নির্দিষ্ট ও স্বাভাবিক যোগসূত্র থেকেছে। কোনও দলেই নির্দিষ্ট জেলার প্রতিভাবান ফুটবলারের দেখা মেলেনি। অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলার হিসেবেও কোনও দলে নির্দিষ্ট জেলার ফুটবলারের নাম এখনও সামনে আসেনি। প্রতি স্টেডিয়ামেই মুষ্টিমেয় দর্শক উপস্থিত থেকেছে। সেই দর্শকদের বিনোদনের জন্য ম্যাচ শেষে অভিনব টাইব্রেকারের আয়োজন থাকছে। প্রতি দল ৫টা করেই শট নিতে পারে। ২৮টা টাইব্রেকারের মধ্যে ১১টার ফয়সালা হয়নি।

অবশিষ্ট ১৭টা টাইব্রেকারের মধ্যে ১৫টার ফলাফল, ম্যাচে জয়ী দলের পক্ষেই গেছে। মাত্র ২টি টাইব্রেকারের ফলাফল ম্যাচে পরাজিত দলের পক্ষে গেছে। বেঙ্গল সুপার লিগের সুরজ আলি, অভিলাস পাল, রবি হাঁসদা, অমিত টুডু, সুদীপ দাস, আকিব নওয়াব ও তারক হেমব্রমরা কলকাতা লিগের চেনা মুখ। বর্তমান সময়ে সন্তোষ ট্রফির বাংলা দলগঠনের তোড়জোড় চলছে। এই সময়ের মধ্যে বেঙ্গল সুপার লিগের ২৮টা ম্যাচ হয়ে গেল। ইতিমধ্যে প্রতিদল ৭টা করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। কিন্তু জেলাস্তর থেকে বাংলা দলের জন্য এই লিগ একটাও নতুন প্রতিভার সন্ধান দিতে পারলো না।

Advertisement