আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে একটি ব্যঙ্গাত্মক মূর্তি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাস্তার ধারে বসানো ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্প ও এপস্টিনকে নিয়ে ‘টাইটানিক প্রেমের কাহিনি’ ধরনের ব্যঙ্গাত্মক ইঙ্গিত করা হয়েছে। মূর্তির পাশে লাগানো লেখাতেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ‘গোপন নগ্ন আঁকার খাতার মাধ্যমে তৈরি হওয়া বন্ধন’।
স্থানীয় কয়েকজন শিল্পী ও প্রতিবাদী গোষ্ঠীর উদ্যোগে এই শিল্পকর্ম বসানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের দাবি, এটি মূলত রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের একটি রূপ। শিল্পীদের বক্তব্য, ক্ষমতা, প্রভাব এবং বিতর্কিত সম্পর্ক নিয়ে জনমত তৈরি করতেই এই ধরনের ব্যঙ্গাত্মক শিল্পকর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।
Advertisement
মূর্তিটিতে ট্রাম্প ও এপস্টিনকে এমন ভঙ্গিতে দেখানো হয়েছে, যা বিখ্যাত ‘টাইটানিক’ ছবির একটি জনপ্রিয় দৃশ্যের অনুকরণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশে রাখা ফলকে লেখা বক্তব্যে দুই ব্যক্তির বন্ধুত্ব ও সামাজিক যোগাযোগ নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে। সেই লেখাতেই ‘গোপন নগ্ন স্কেচের খাতা’ প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়েই মূল বিতর্কের সূত্রপাত।
Advertisement
এই শিল্পকর্ম প্রকাশ্যে আসার পরই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বলে সমর্থন জানিয়েছেন, আবার অনেকে এটিকে অশোভন ও মানহানিকর বলেও সমালোচনা করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের একাংশের দাবি, এই ধরনের শিল্পকর্ম আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনের আবহে ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে আক্রমণ করার জন্য এই ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিল্পকর্মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দাবি, গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র ও প্রতিবাদী শিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। তাঁদের মতে, সমাজ ও রাজনীতির নানা বিতর্কিত প্রসঙ্গকে সামনে আনতেই এই ধরনের শিল্পকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
প্রশাসনের তরফে এখনও এই মূর্তি সরানো হবে কি না, তা স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের জনপরিসরে বসানো এই ব্যঙ্গাত্মক শিল্পকর্ম ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Advertisement



