টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সুপার এইটের খেলা শুরু হতেই একদিকে চমক, আর অন্যদিকে অঘটন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে, এবারে ব্ল্যাক হর্স বলতেই উঠে এসেছে জিম্বাবোয়ে। কেউই ভাবতে পারেননি জিম্বাবোয়ে এইভাবে চমক দিয়ে গ্রুপ পর্যায়ে উঠে আসবে। সোমবার মুম্বইতে জিম্বাবোয়ে লড়াই করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। দুই দলেই বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছেন, যাঁরা তুরুপের তাস হিসেবে মাঠে দেখতে পাওয়া গেছে। জিম্বাবোয়ের অধিনায়ক টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রান করে। জিম্বাবোয়ের বোলাররা প্রথম থেকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম উইকেটটি পড়ে ১৭ রানের মাথায়। আউট হন ব্যান্ডন কিং। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৯ রান। সাই হোপের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে খেলতে আসেন সিমরন হেটমায়ার। দু’জনেই বেশ স্বচ্ছন্দে খেলতে থাকেন।
Advertisement
কিন্তু ৫৪ রানের মাথায় সাই হোপ আউট হয়ে যান ১৪ রান করে। সিমরনের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে জুটি বাঁধেন রবম্যান পাওয়েল । অল্পের জন্য হেটমায়ার শতরান থেকে বঞ্চিত হন। তিনি ৮৫ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। তাঁর ব্যাট থেকে সাতটি বাউন্ডারি ও সাতটি ছক্কা আসে। তিনি খেলেছেন মাত্র ৩৪টি বল। পাওয়েল করেছেন ৫৯ রান। তিনি খেলেছেন ৩৫ বল।
Advertisement
তিনি চারটি ছক্কা ও চারটি চার মেরেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় উইকেটটি পড়ে ১৭৫ রানের মাথায়। শেরফানে র্যাছদারফোর্ড ৩১ রান স্কোরবোর্ডে উপহার দেন। তিনি খেলেছেন মাত্র ১৩টি বল। তিনি অপরাজিত থাকেন। রোমারিয় শেফার্ড ২১ রান যোগ করেছেন। জেশন হোল্ডার ১৩ রান করে আউট হয়ে যান। তিনি খেলেছেন চারটি বল। আর ম্যাথিউ ফর্ডে নটআউট থাকেন ১ রান করে।
জিম্বাবোয়ের হয়ে দু’টি উইকেট পেয়েছেন রিচার্ড গারাভা।জিম্বাবোয়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল ম্যাচ জেতার জন্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেটে ২৫৪ রান করে প্রতিপক্ষ দলকে চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এককথায় বলা যায়, এই বড় রানকে টপকাতে গেলে জিম্বাবোয়ের ব্যাটসম্যানদের প্রথম থেকেই আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে খেলতে হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ২৫৫ রানের টার্গেট নিয়ে জিম্বাবোয়ে ৩ উইকেটে ৪৪ রান নিয়ে খেলছে।
আইপিএলে সব ম্যাচে মাঠে নামবেন না মহেন্দ্র সিং ধোনি
চেন্নাই— আইপিএল ক্রিকেট আর অল্প কিছুদিন বাদেই শুরু হওয়ার মুখে। ইতিমধ্যেই নিলামে বেশ কিছু খেলোয়াড়কে বিভিন্ন দলে তুলে নেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি বলতেই চেন্নাই সুপার কিংস। তিনি দলের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। অবশ্য গতবছর আইপিএল ক্রিকেটে চেন্নাই দলকে তিনি নেতৃত্ব দেননি। ধোনি পিছন থেকেই পুরো দলটাকে পরিচালনা করেছেন।
আগামী মরশুমে ধোনি প্রতিটি ম্যাচ খেলবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। দলের অন্যতম কর্মকর্তা কাশী বিশ্বনাথন জানিয়েছেন, ধোনির পক্ষে কোনওভাবেই প্রতিটি ম্যাচে খেলা হয়তো সম্ভব হবে না। তার প্রধান কারণ হল শারীরিক অবস্থা এবং বয়সজনিত কারণ। ৪৫ বছর বয়সে তিনি এখনও যেভাবে ক্রিকেটের জন্য পরিষেবা দিচ্ছেন, তা অবশ্যই বড় প্রাপ্তি। তিনি আরও বলেছেন, যে ম্যাচেই ধোনি খেলবেন, সে ম্যাচটির চরিত্র বদলে যাবে। সেই কারণেই তাঁর পছন্দের মতো খেলাগুলিতেই চেন্নাইয়ের হয়ে মাঠে নামবেন।
ধোনির বিকল্প ইতিমধ্যেই বেছে ফেলেছে চেন্নাই সুপার কিংস। গত নিলামের আগে রাজস্থান রয়্যালস থেকে সঞ্জু স্যামসনকে নিয়েছে তারা। সঞ্জু রাজস্থানে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে চেন্নাইয়ের অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়েরও সুবিধা হবে। উইকেটের পিছন থেকে যে কাজটা ধোনি করতেন, সেটাই করবেন সঞ্জু। যদি কোনও ম্যাচে ঋতুরাজ খেলতে না পারেন, তা হলে সঞ্জুকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যেতে পারে।
গত বারই দেখা গিয়েছিল, বেশ কিছু ম্যাচে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে খেলেছেন ধোনি। খেলার আগে ও পরে হাঁটুতে নি-ক্যাপ পরে থাকতেন তিনি। বোঝা যেত, হাঁটু নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। ধোনির যা বয়স ও হাঁটুর যা অবস্থা তাতে প্রতি ম্যাচে ২০ ওভার কিপিং করা কঠিন। তাই ধোনিকে হয়তো এ বারেও প্রতি ম্যাচে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবেই খেলানো হবে। উইকেটের পিছনে সঞ্জুকে দেখা যেতে পারে।রবিবারই ধোনির অবসরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংসের সিইও বিশ্বনাথনকে।
তিনি শুধু বলেন, ‘‘ও খেলবে। ও খেলবে।’’ দলের প্রাক্তন অধিনায়কের অবসর নিয়ে জল্পনা বন্ধ হওয়া উচিত বলেও জানিয়েছেন বিশ্বনাথন। ২০২৪ সালের আইপিএলের আগে চেন্নাইয়ের নেতৃত্ব ছেড়ে দেন ধোনি। সিএসকের অধিনায়ক হন ঋতুরাজ। তখন থেকেই ৪৪ বছরের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের অবসর নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এ বছর সিএসকে কর্তৃপক্ষ সঞ্জুকে দলে নেওয়ায় জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
আইপিএলের গত নিলামের পর আবু ধাবিতে সিএসকে কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং বলেছিলেন, ‘আমরা ভবিষ্যতের দল তৈরির উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। ধোনি কোনও না কোনও দিন অবসর নেবেই। সে কারণে আমরা সঞ্জুকে দলে নিয়েছি। সঞ্জু আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার। ধোনির শূন্যস্থান ও ভাল ভাবেই পূরণ করতে পারবে।’ ফ্লেমিংয়ের ওই বক্তব্য ধোনির অবসর নিয়ে জল্পনাকে আরও উস্কে দেয়।
২০১৯ সালের পর দেশের হয়ে না খেলায় আইপিএলে ধোনিকে এখন ঘরোয়া ক্রিকেটার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধোনির ক্রিকেটীয় দক্ষতার ধার কমেছে। বিশেষ করে ব্যাটসম্যান ধোনি গত দুই মরশুম ধরে আইপিএলে ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না। যদিও আইপিএল থেকে অবসরের ইঙ্গিত কখনও দেননি ধোনি। আইপিএল ছাড়া আর কোনও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটও এখন খেলেন না ভারতকে দু’টি বিশ্বকাপ দেওয়া প্রাক্তন অধিনায়ক। এখন অপেক্ষা করতে হবে ধোনি যে সমস্ত ম্যাচগুলিতে খেলবেন, সেই ম্যাচগুলির চরিত্র কেমন হবে, তার দিকে।
Advertisement



