গোলের সুযোগ নষ্ট করাটা যে নিয়মে পরিণত হয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan) শিবিরে, তা কার্যত মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না তাদের গ্রিক কোচ প্যানায়োতিস দিমপেরিসের। স্বীকার তো করেনই, সঙ্গে বলেও দেন যে, এই ভুল না শোধরাতে পারলে আইএসএলে তাঁর দলের ফুটবলারদের কপালে দুঃখ আছে।
সোমবার গুয়াহাটিতে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে ০-১-এ হারে সবুজ-মেরুন বাহিনী। ম্যাচের একেবারে শেষে জিথিন এমএসের গোলে জেতে নর্থইস্ট। এই ম্যাচে গোলের প্রচুর সুযোগ পায় তিনবারের আইএসএল চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু একটা সুযোগও ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারেননি তাঁরা।
ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে নর্থইস্ট যেখানে সারা ম্যাচে মাত্র দুটি শট গোলে রাখতে পারে, সেখানে মোহনবাগান এসজি (Mohun Bagan) -র ছ-ছ’টি শট ছিল লক্ষ্যে। তা সত্ত্বেও একটিও শট তারা জালে জড়াতে পারেননি। সব মিলিয়ে সারা ম্যাচে সবুজ-মেরুন বাহিনী মোট ১৭টি শট নেয়। নর্থইস্টের মোট শটের সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ। অথচ শেষ মুহূর্তের আকস্মিক গোলে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে মাঠ ছাড়ে পেদ্রো বেনালির দল।
সংযুক্ত সময়ে আসল কাজটা করেন জিথিন এমএস। প্রথমে ফ্রি কিক থেকে আন্তোনিও মোয়ানো গোলে শট মারলে তা বিশালের হাতে ও পোস্টে লেগে ফিরে আসে, সেই ফিরতি বল জালে জড়িয়ে দেন জিথিন। এই গোলই ম্যাচের ফল তৈরি করে দেয়।
মোহনবাগানের কোচ দিমপেরিস ম্যাচের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ম্যাচটা আমরা জেতার জন্যই নেমেছিলাম এবং ম্যাচটা আমাদের জেতাও উচিত ছিল। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা পারলাম না’।
এত গোলের সুযোগ নষ্ট করার পরও ভাগ্যকে দুষছেন কেন কোচ? তাঁর ব্যাখ্যা, ‘আমাদের দুটো শট পোস্টে লেগে ফিরে এসেছে। একে দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কীই বা বলব? গোলের পরিস্থিতিতে একটু ভাগ্যেরও প্রয়োজন হয়। বল পোস্টে লাগতে পারে, কিংবা অন্য কোনও ভাবে গোল হয়ে যেতে পারে। নর্থইস্ট গোল করার আগেও সুহেলের একটি শট পোস্টে লেগেছিল’।
কিন্তু বাস্তব মেনে নিতেই হবে। তাই দিমপেরিস বলছেন, ‘এটাই ফুটবল। এই ফল আমাদের কষ্ট দিয়েছে। আমরা খুব হতাশ। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমরা জয় দিয়ে মরসুম শুরু করতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, জয়টা প্রাপ্যও ছিল আমাদের। কিন্তু ভাগ্য সাহায্য করল না’।
কিন্তু একের পর এক সুযোগ নষ্টের খেসারত যে দিতে হয়েছে তাঁদের, এ কথাও অস্বীকার করেননি। কোচ সরাসরি বলে দেন, ‘হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। এটাই আমাদের প্রধান সমস্যা। প্রতিপক্ষের গোলকিপারের সামনে আমরা পাঁচ-পাঁচটা ভালো সুযোগ পেয়েছিলাম। বক্সের বাইরে থেকে ছ’টি, সাতটি বা তারও বেশি শট নিয়েছি।
এ ছাড়াও, বক্সের মধ্যে বেশ কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে আমরা গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু ঠিকঠাক ক্রস বাড়াতে পারিনি, কিংবা সঠিক থ্রু দিতে পারিনি। গোল করতে না পারাই ছিল আমাদের প্রধান সমস্যা’।
গোলের সামনে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শেষ দিকে এমনও হয়েছে যে মিগেল ফিগেরা সরাসরি গোলে না মেরে এমন একজন খেলোয়াড়কে পাস দিয়ে দেন, সুহেল ভাট, যিনি অফসাইডে ছিলেন। এমন সিদ্ধান্তের ভুলের ব্যাখ্যা দিয়ে কোচ বলেন, ‘আসলে টানা গোলের সুযোগ নষ্ট করার প্রভাব পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর ওপর পড়ে। আমরা অনেকগুলো সুযোগ নষ্ট করেছি। সেই পরিস্থিতিতে ওর ভাবনাটা একেবারে ভুল ছিল, এমনটা বলব না। মিগেল পাস দিয়ে সতীর্থের জন্য গোল করাটা সহজ করে দিতে চেয়েছিল।
আরও খবর: ফের চোট, নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম দুই ম্যাচে নেই ঋষভ পন্থ
তবে মিগেলের দক্ষতার কথা বিবেচনা করলে, আমি আপনাদের সঙ্গে একমত। ওর সরাসরি শট নেওয়া উচিত ছিল। বলটা তখন হাওয়ায় ছিল, ও সেখান থেকেই গোল করতে পারত’।
এই ম্যাচে ৬০ মিনিটের মাথায় লি আরউইনকে তুলে নিয়ে পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামানো হয় মিগেলকে। সমর্থকেরা আরউইন ও মিগেলকে একসঙ্গে খেলতে দেখতে চাইলেও সেই সাধ এই ম্যাচে পূরণ করতে পারেননি দিমপেরিস।
এই পরিবর্তনের কারণও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সবুজ-মেরুন কোচ। বলেন, ‘ওই জায়গায় স্ট্রাইকার হিসাবে মনবীরের উপরই আমার আস্থা ছিল। কারণ, ততক্ষণে লি চারটে গোলের সুযোগ নষ্ট করেছিল। আমি ডুরান্ড কাপের ম্যাচগুলিতে এবং জাতীয় দলের হয়ে মনবীরের খেলা দেখেছি। আমার মনে হয়েছে, ও ভাল ছন্দে রয়েছে এবং গোল করতে পারে। সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত’।
গুয়াহাটি থেকে এ বার বাগান-বাহিনী পাড়ি দেবে রাজধানীতে, সেখানে শুক্রবার তাদের ম্যাচ এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে। প্রথম ম্যাচে বেঙ্গালুরুর কাছে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘরের মাঠে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে পারে দিল্লির দল। একইরকম জয়ের তাগিদ নিয়ে মাঠে নামবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডও। তাই এই ম্যাচেও উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠবে হয়তো। তবে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ফের দুর্ভোগ আছে হয়তো।
দেখুন:




