কয়েক দিন আগেই শ্রীলঙ্কা ‘এ’-র বিরুদ্ধে ম্যাচে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ভারতের তরুণ ব্যাটসম্যান বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল তাঁর মেজাজ ও আচরণ নিয়ে। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সেই বিতর্কের জবাব তিনি দিলেন নিজের ব্যাট দিয়ে।
ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কা ‘এ’-র বিরুদ্ধে ফাইনালে নেমে বৈভব খেললেন মাত্র ২৯ বলে ৯৪ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০টি চার ও ৮টি ছক্কা। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি মাত্র ১১ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম ৫০-এর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এর মাধ্যমে ভেঙে যায় ২১ বছরের পুরনো রেকর্ড। বৈভবের এই ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে শ্রীলঙ্কার দলকে জয়ের জন্য ৩৭৮ রানের টার্গেট দেয়। কিন্তু ৩১১ রানের বেশি তুলতে পারেনি তারা। তার মধ্যেই অল আউট হয়ে যায় আয়োজক দেশ। অর্থাৎ তাদের ৬৬ রানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হল ভারত।
বৈভবের এই ইনিংসকে শুধুমাত্র একটি বড় স্কোর বলে দেখলে ভুল হবে। কারণ এর পেছনে আছে এক বিশেষ প্রেক্ষাপট। গত সপ্তাহে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সুপার ওভারে ভারতের হার এবং ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন বৈভব। ঘটনাটি নিয়ে ক্রিকেটমহলে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ক্রিকেটারের উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দুই দেশের ক্রিকেট মহলেও বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ফাইনালের আগে বৈভবের একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিও নজর কেড়েছিল। সেখানে তিনি শুধু “100” লিখে পোস্ট করেছিলেন। অনেকেই সেটিকে ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ বা প্রতিশোধের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও তিনি একশো থেকে ছ’রান দূরে থেমে যান, তাঁর ইনিংসের ধ্বংসাত্মক চরিত্রই ম্যাচের রং বদলে দেয়।
এই পারফরম্যান্স ভারতের ক্রিকেট মহলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। সাম্প্রতিক বিতর্কের পরে অনেকেই বৈভবের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু ফাইনালে তিনি দেখালেন, প্রতিক্রিয়া জানানোর সেরা উপায় মাঠে পারফর্ম করা। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিপক্ষকে ব্যাট হাতে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতাই বড় ক্রিকেটারদের চেনায়। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘ পথ চলতে গেলে আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং চাপ সামলানোর দক্ষতাও সমান জরুরি। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই ৯৪ রানের ইনিংস প্রমাণ করল, তাঁর মধ্যে সেই পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডাম্বুলার এই ফাইনালে সমালোচনার জবাব তিনি মুখে দেননি, দিয়েছেন ব্যাটে। আর সেই জবাব ছিল বিশ্বরেকর্ড গড়ার মতোই জোরালো। এদিন ব্যাটে যেমন তিলক ভার্মা (৬৭), রুতুরাজ গায়কোয়াড় (৪০), অনুকূল রায় (৩৯), প্রিয়াঙশ আর্য্য (৩৯) উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন, তেমন বোলিংয়ে যশ ঠাকুর (৩-৪৫) ও ভিপরাজ নিগম (৩-৬০) নজর কাড়েন। তবে ম্যাচের সেরার পুরস্কার বৈভব ছাড়া আর কে-ই বা পেতেন?




