• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 21 June, 2026

উনদাভের জাদুতে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউটে প্রবেশ জার্মানির

গ্রুপের অন্য ম্যাচে কুরাসাও-ইকুয়েডর গোলশূন্য ড্র করায় জার্মানি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নক আউট পর্বে উঠে পড়ে

দুর্দান্ত ফর্ম বজায় রাখল জার্মানি। আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে পা রাখল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ দিন গ্রুপের অন্য ম্যাচে কুরাসাও-ইকুয়েডর গোলশূন্য ড্র করায় জার্মানি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নক আউট পর্বে উঠে পড়ে।

শনিবার গ্রুপ ‘ই’-র ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় জার্মানি। তবে আইভরি কোস্টের শক্তিশালী ও সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ নষ্ট করে জার্মানরা। শেষ পর্যন্ত রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে নামা তরুণ তারকা ডেনিজ উনদাভের গোলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

জার্মানির শুরুটা ভালই করে। কিক-অফের পরপরই কাই হাভার্টজ হেডে বল জিতে নিয়ে বলটি ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে পাঠান। এর পর যোশুয়া কিমিখের নিখুঁত ক্রস থেকে আবারও সুযোগ পান এই ফরোয়ার্ড, কিন্তু তাঁর নিচু হেড দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা।

কিছুক্ষণ পর ফোফানা পরাস্ত হয়েছিলেনও। ডান দিক থেকে নেওয়া কর্নার থেকে আলেকসান্দার পাভলোভিচ হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন। তবে রেফারি বাঁশি বাজিয়ে গোলটি বাতিল করেন, কারণ বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডার হেড করার সময় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করেন।

তবু ‘লে জেলেফঁ’ (আইভরি কোস্ট) হাল ছাড়েনি। বরং ম্যাচের গতির বিপরীতে তারা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদেরই চমকে দেয়। সবসময়ই বিপজ্জনক ইয়ান দিয়োমঁদে বাঁ দিক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে একটি নিচু ক্রস বাড়ান, যা এসে পড়ে আমাদ দিয়ালোর পায়ে। নাথানিয়েল ব্রাউন প্রথম শটটি ব্লক করতে সক্ষম হলেও, ফিরতি বলে ফ্রাঙ্ক কেসি সহজেই জালে বল জড়িয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আফ্রিকার দল ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, ফলে জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান দল সাজানোর কৌশলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন। ম্যাচের ৬০ মিনিটে তিনি নাদিয়েম আমিরি ও ডেনিজ উনদাভকে মাঠে নামান। আর মাত্র আট মিনিটের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্তের সুফল পান তিনি। আমিরির নিখুঁত ক্রস থেকে উনদাভ হেডে গোল করে জার্মানিকে ম্যাচে ফেরান।

আইভরি কোস্টের কোচ এমার্স ফায়েও বেঞ্চের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেন এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তার সুফল পেতে পারতেন। নিকোলাস পেপে ডান দিক দিয়ে দারুণ দৌড়ে উঠে আসেন। এভান গেসাঁ জার্মান রক্ষণভাগকে নিজের দিকে টেনে নেওয়ায় বক্সের বাঁ দিকে সম্পূর্ণ ফাঁকা অবস্থায় ছিলেন সিমন আদিংরা। কিন্তু বল নিয়ন্ত্রণে সামান্য ভুল হওয়ায় তিনি সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি এবং জার্মান ডিফেন্ডারদের চাপে পড়ে যান।

সেই মিস করা সুযোগের জন্যই শেষ পর্যন্ত আইভরি কোস্টকে বড় মূল্য চোকাতে হয়। সংযুক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে লুকাস এনমেচা চতুরতার সঙ্গে একটি থ্রু বল বাড়িয়ে দেন উনদাভের উদ্দেশে। তিনি বল পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত ফিনিশে বল জালে জড়ান, আর তাতেই ভেঙে যায় আইভরিয়ানদের হৃদয়।

গ্রুপ পর্বে এখন জার্মানির সামনে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের ভাগ্য নির্ধারণ হবে শেষ ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে ফলাফলের ওপর। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্টে নামা জার্মানি এদিন হয়তো সবচেয়ে ঝলমলে ফুটবল খেলতে পারেনি, কিন্তু কঠিন ম্যাচ জিতে নেওয়ার ক্ষমতা যে তাদের রয়েছে, সেটাই আবারও প্রমাণ করল জুলিয়ান নাগেলসমানের দল।