• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 29 October, 2026

নিউজিল্যান্ড সফরের আগে সুইং সামলানোর প্রস্তুতি, বৃষ্টিতে ভেজা পিচে, নরম বলে অভিনব অনুশীলন পাডিক্কালের

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দু’টি টেস্টে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হয়ে উঠতে পারেন পাডিক্কাল। বৃষ্টিভেজা পিচে তাঁর এই প্রস্তুতি শেষ

নিউজিল্যান্ড সফরের আগে সুইং সামলানোর প্রস্তুতি, বৃষ্টিতে ভেজা পিচে, নরম বলে অভিনব অনুশীলন পাডিক্কালের

Devdutt Padikkal Photo-SNS

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বল সুইং করবে, বাতাসও ব্যাটারদের পরীক্ষা নেবে। সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ঘরের মাঠেই অভিনব প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেবদত্ত পাডিক্কাল। বৃষ্টিভেজা কৃত্রিম পিচে হালকা, নরম বলে অনুশীলন করেছেন ভারতের বাঁহাতি ব্যাটার। লক্ষ্য একটাই— সুইং করা বলের পিছনে ছুটবেন না, ধৈর্য ধরে ছেড়ে দিতে শিখবেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে পাডিক্কালের এই প্রস্তুতিতে এটাই বেশি নজর কেড়েছে।

নিউজিল্যান্ড সফরের প্রস্তুতি হিসেবে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতাও কাজে লাগছে তাঁর। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১৩ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ভারতীয় ‘এ’ দল। সেই ধাক্কার পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৯ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন পাডিক্কাল। তাঁর ব্যাটে ভর করেই ৫১৬ রান তোলে ভারত। বৃষ্টি ও খারাপ আলোর কারণে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতা হয়নি। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েছেন তিনি।

পাডিক্কালের দীর্ঘদিনের ব্যাটিং কোচ মহম্মদ নাসেরুদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডে সুইং সামলানোর জন্য অনুশীলনে জোর দেওয়া হয়েছিল বলের পিছনে না ছোটা এবং অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দেওয়ার অভ্যাস তৈরিতে।

নাসেরুদ্দিন জানিয়েছেন, ‘আমাদের অনুশীলনে জোর দেওয়া হয়েছিল বলের পিছনে না ছোটা এবং যে বল অনেকটা সুইং করছে, সেটাকে ছেড়ে দেওয়ার উপরে। আর বল যদি ব্যাটের নাগালে আসে, তা হলে ড্রাইভ করতে হবে’।

পরিকল্পনা ছিল, পিচে জল দিয়ে ভিজিয়ে অনুশীলন করা হবে। কিন্তু সেদিন বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আলাদা করে জল দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। অধিকাংশ ক্রিকেটার বৃষ্টিতে অনুশীলন করতে চাইতেন না। কিন্তু পাডিক্কাল অন্য রকম। কোচের কথায়, ‘বৃষ্টি শুরু হলে বেশির ভাগ ক্রিকেটারই বলত, ‘স্যর, বৃষ্টি হচ্ছে।’ কিন্তু এই ছেলেটি বলেছিল, ‘আমরা এখানেই অনুশীলন করব।’ ওর এই মানসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রায় দু’ঘণ্টা অনুশীলন করেছিল’।

অনুশীলনকে আরও কঠিন করে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছিল বিশেষ ধরনের হালকা ও নরম বল। চামড়ার বলের মতো সেলাই থাকলেও এই বল ওজনে হালকা, ফলে সুইং বেশি হয়। ভিজে অ্যাস্ট্রোটার্ফের উপর সেই বলে অনুশীলন করে নিউজিল্যান্ডের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন পাডিক্কাল।

বিদেশের মাটিতে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা অবশ্য পাডিক্কালের কাছে নতুন নয়। টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ধর্মশালায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তার পরে অস্ট্রেলিয়ার পারথ্ এবং শ্রীলঙ্কার গলে ও কলম্বোয় খেলেছেন তিনি। ভিন্ন ধরনের পিচে মানিয়ে নিয়ে প্রথম চারটি টেস্টে ছ’টি ইনিংসে ৪১৮ রান করেছেন পাডিক্কাল। গড় ৬৯.৬৬। রয়েছে দু’টি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরি।

শ্রীলঙ্কা সফরের আগে স্পিন খেলার প্রস্তুতিতে বিশেষ জোর দিয়েছিলেন তিনি। নাসেরুদ্দিন জানিয়েছেন, সেই সফরের আগে কুকাবুরা বলে অনুশীলন করেছিলেন পাডিক্কাল। বাঁহাতি স্পিনার-সহ বিভিন্ন ধরনের স্পিনারের বিরুদ্ধে ব্যাট করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শ্রীলঙ্কায় ১৬৭ ও ১১৭ রানের ইনিংস খেলে টেস্ট দলে তিন নম্বর জায়গার দাবিও জোরালো করেন তিনি।

এ বার অবশ্য চ্যালেঞ্জ আলাদা। নিউজিল্যান্ডের পরিবেশে সুইং সামলানোই প্রধান পরীক্ষা। পাডিক্কাল পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেট এবং আইপিএলেও নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি জায়গা পাকা করতে হলে লাল বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দু’টি টেস্টে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হয়ে উঠতে পারেন পাডিক্কাল। বৃষ্টিভেজা পিচে তাঁর এই প্রস্তুতি শেষ পর্যন্ত কতটা কাজে আসে, এখন সেটাই দেখার।