ভারতের তারকা ক্রিকেটার রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে নেমেই বিজয় হাজারে ট্রফির চরিত্রই বদলে দিলেন। একই দিনে এই দুই তারকা ক্রিকেটার শুধু শতরান উপহার দিলেন, তাই নয়, নতুন নজিরও গড়লেন। একদিকে রোহিত শর্মার ব্যাট থেকে শতরানের ফুলঝুরি আবার অন্যদিকে বিরাট কোহলির আগ্রাসী ভূমিকায় শতরান উপহার। এই দুই তারকার শতরানে ভর করেই দিল্লি ও মুম্বই দল জিতল। আবার ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে নেমেছেন ১৫ বছর বাদে বিরাট কোহলি আর সাত বছর বাদে মাঠে নামলেন রোহিত শর্মা। দু’জনকেই চেনা ফর্মে দেখতে পাওয়া গেল বিজয় হাজারে ট্রফিতে। রোহিত ও কোহলির ভক্তরা তাঁদের খেলা দেখে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন।
বুধবার এখানে মুম্বই দল মুখোমুখি হয়েছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল সিকিমের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল। এদিন রোহিতের খেলা দেখতে কয়েক হাজার দর্শক মাঠে এসেছিলেন। খেলা শুরুর অনেক আগেই প্রচুর সমর্থককে ভিড় করতে দেখতে পাওয়া গেছে স্টেডিয়ামের বাইরে। এই ম্যাচে দর্শকদের জন্য বিনামূল্যে মাঠে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মুম্বইয়ের বোলারদের সামনে কোনওভাবেই সিকিমের ক্রিকেটাররা শক্ত হাতে ব্যাট করতে পারেননি। এককথায় বলা যায় চাপে পড়ে গিয়েছিল সিকিম দল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৩৬ রান করে সিকিম। তার জবাবে ব্যাট করতে নেমে মুম্বইয়ের ওপেনার রোহিত শর্মা ঝড়ের গতিতে রান করতে থাকেন। ব্যক্তিগত ৯৮ রানের মাথায় ছক্কা মেরে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা শতরান পূর্ণ করেন। তিনি আটটি চার ও ন’টি ছক্কা মারেন। রোহিতের এটি ৩৭তম শতরান। তার আগে তিনি ২৭ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন। এদিনের শতরানে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে রোহিত সবচেয়ে দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে চিহ্নিত হলেন। এর আগে ২০২৩ সালে দিল্লিতে দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৬৩ বলে শতরান করেছিলেন। নিজের রেকর্ডকে ভেঙে দিলেন সিকিমের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত ৯৪ বলে ১৫৫ রান করেন। রোহিতের মুম্বই ২ উইকেট হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
Advertisement
অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের মাঠে দিল্লি ও অন্ধ্রপ্রদেশ মুখোমুখি হয়েছিল। অন্ধ্রপ্রদেশ প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৯৮ রান করে ইনিংস শেষ করে। দলের রিকি ভুইয়ে শতরান করার কৃতিত্ব দেখান। রিকি ১০৫ বলে ১২২ রান করেন। তবে, বিরাট কোহলির শতরানের কাছে তাঁর এই ইনিংস কোনও জায়গা পেল না। বিরাট কোহলি ব্যাট করতে এসে আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে খেলা শুরু করেন। বিরাটের ব্যাটের সামনে অন্ধ্রপ্রদ্শের বোলাররা দিশেহারা হয়ে যান। কোনও ভাবেই বিরাটকে চাপের মধ্যে ফেলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বিরাট ১০১ বলে ১৩১ রান করে সবার নজর কেড়ে নেন। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, শচীন তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভেঙে দিলেন। শচীন ৩৯১তম ইনিংসে ১৬ হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন। আর সেই কাজটা সেরে ফেললেন বিরাট কোহলি ৩৩০তম ইনিংসে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে দিল্লির বিরাট কোহলিকে শাসন করতে দেখা গেল এবং জয়ও এনে দিলেন।
Advertisement
Advertisement



