বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে একই পরিবারের তিন প্রজন্মের দাপট নতুন নয়, কিন্তু উরুগুয়ের ফোরলান পরিবারের সাফল্য যেন রূপকথাকেও হার মানায়। সম্প্রতি দিয়েগো ফোরলান উরুগুয়ে জাতীয় দলের (Uruguay Team) কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফুটবল মহলে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে এই ঐতিহাসিক ফুটবল রাজবংশ।
খেলার দুনিয়ায় একটা বহু প্রচলিত প্রশ্ন ঘুরে বেড়ায়— দিয়েগো ফোরলানের বাবা ও দাদু, দুজনেই কি উরুগুয়ে জাতীয় দলের কোচ ছিলেন? ইতিহাস বলছে, ফোরলানের দাদু জাতীয় দলের কোচিং করালেও, তাঁর বাবা মাঠ কাঁপিয়েছেন ফুটবলার হিসেবেই।
আরও পড়ুন: শেষ বার আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি, আপনিও দেখতে পারেন সেই ম্যাচ, সরাসরি, কখন, কোথায়?
দাদুর হাত ধরে জয়যাত্রা
দিয়েগো ফোরলানের মাতামহ (দাদু) হুয়ান কার্লোস কোরাজ্জো ছিলেন উরুগুয়ে (Uruguay Team) ফুটবলের অন্যতম প্রধান রূপকার। তিনি শুধুমাত্র ফুটবলার হিসেবেই সফল ছিলেন না, পরবর্তীতে উরুগুয়ে জাতীয় দলের (Uruguay Team) কোচের দায়িত্বও সামলেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপেও উরুগুয়ের (Uruguay Team) ডাগআউটে ছিলেন তিনি। তাঁর কোচিংয়েই উরুগুয়ে (Uruguay Team) কোপা আমেরিকা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল।
কোরাজ্জোর জামাই তথা দিয়েগো ফোরলানের বাবা পাবলো ফোরলান অবশ্য কোচের ভূমিকা পালন করেননি। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার।
উরুগুয়ের (Uruguay Team) জার্সি গায়ে ১৯৬৬ এবং ১৯৭৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছিলেন পাবলো। কোপা আমেরিকার মঞ্চেও ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: আজ যুবভারতীতে উরুগুয়ের কোন কোন তারকাকে নজরে রাখবেন?
তিলে তিলে গড়ে ওঠা ইতিহাস
পরবর্তীকালে পাবলোর সুযোগ্য পুত্র দিয়েগো ফোরলান যখন ২০১১ সালে উরুগুয়ের (Uruguay Team) হয়ে কোপা আমেরিকা জেতেন, তখন তৈরি হয় এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড। একই পরিবারের তিন প্রজন্ম (দাদু কোরাজ্জো, বাবা পাবলো এবং নাতি দিয়েগো) কোপা আমেরিকা জয়ের এক অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে দিয়েগো নিজেই উরুগুয়ে জাতীয় দলের (Uruguay Team) কোচের হটসিটে বসে দাদুর উত্তরাধিকার বহন করছেন।
এর জন্য বেশ গর্বিত দিয়েগো ফোরলান। দাদু, বাবার বিষয়ে প্রশ্ন শুনে বেশ খুশিই হয়ে উঠলেন, বললেন, ‘বাবা খুব খুশি যে, আমিও ফুটবল খেলার পর কোচিং করছি। আমি যখন খেলতাম, তখনও তিনি খুব আনন্দ পেতেন এবং আমার খেলা উপভোগ করতেন।
তিনি নিজেও ফুটবল খেলতেন এবং একজন খেলোয়াড় হিসেবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছিলেন। আর আমি নিজেও বহু বছর ধরে বিভিন্ন মহাদেশ ও দেশে, অনেক ভালো ভালো দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছি। এখন কোচ হিসেবে এই সুযোগ পেয়েছি।
আমার দাদুও জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। তাই এখন আমার মা প্রথমে তাঁর বাবাকে অর্থাৎ আমার দাদুকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দেখেছেন, আর এখন তাঁর ছেলেকেও কোচ হিসেবে দেখছেন।
ফুটবলের ইতিহাসে বোধহয় এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। তাই আমাদের পরিবারের জন্য এই সুযোগ পাওয়াটা সত্যিই অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। আমরা সবাই খুব খুশি যে, এমন একটি কাজ করতে পারছি, যেটা আমরা সত্যিই ভালোবাসি। আর উরুগুয়ের (Uruguay Team) মতো একটি মহান জাতীয় দলের কোচিং করাটা আমাদের কাছে সত্যিই অত্যন্ত সম্মানের’। ফুটবলার হিসেবে বিশ্ব কাঁপানোর পর, ডাগআউটে দাঁড়িয়ে তিনি উরুগুয়েকে (Uruguay Team) কোন শিখরে নিয়ে যান, এখন সেটাই দেখার।
দেখুন:




