আইএসএল ফুটবলে ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গলকে হারতে হল জামশেদপুর এফসি-র কাছে। জামশেদপুর এফসি ২-১ গোলে অস্কার ব্রুজোর লাল-হলুদ দলকে পরাস্ত করল। পরপর দুই ম্যাচে জেতার পরে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা আশা করেছিলেন, জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে জয়ের হ্যাটট্রিক করবেন। সেই আশা বিফলে গেল। ইস্টবেঙ্গলের দুই প্রাক্তন ফুটবলার মাদিহ তালাল ও মেসি বাউলি যেভাবে দাপট দেখালেন, সেই দাপটেই বিধ্বস্ত হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল।
জামশেদপুরের ফুটবলাররা খেলার শুরু থেকেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে প্রেসিং ফুটবলের প্রদর্শনী করলেন। যার ফলে চাপে পড়ে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগ। মাঝমাঠ থেকে বল তুলে নিয়ে আক্রমণ শানাতে কোচ অস্কার ব্রুজোর ছক বাস্তবে রূপ পেল না। সেই জায়গায় জামশেদপুরের তালাল ও নিকোলা স্টোজানোভিচের ছন্দবদ্ধ এবং সম্মিলিত প্রয়াস মাঝমাঠ নিজেদের দখলে রেখে দিয়েছিলেন। সেই কারণে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা মাঝমাঠ থেকে উঠে এসে প্রতিপক্ষ দলের রক্ষণভাগকে চিন্তায় ফেলতে পারেননি। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার মেসি বাউলি একটি গোল করে ফেলেছিলেন। কিন্তু অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। তখন থেকেই ইস্টবেঙ্গলের সামনে অশনি সংকেত দেখা যায়। গত দু’টি ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল যেভাবে আক্রমণ গড়ে তুলেছিল, সেই আক্রমণ এদিন একেবারে বোতলবন্দি বললে কোনও ভুল হবে না।
Advertisement
বিরতির আগে ইস্টবেঙ্গল গোল করে এগিয়েছিল। ৪০ মিনিটের মাথায় এডমুন্ড লালরিনদিকা গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন। গ্যালারিতে সমর্থকদের গর্জন এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল, তা ভাবার মতো নয়। কিন্তু সেই আওয়াজ শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে পারেননি ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা। দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের কাছ থেকে আরও বেশি আগ্রাসী ভূমিকা আশা করা গিয়েছিল। কিন্তু তা স্তব্ধ হয়ে গেল। এর কারণ বোঝা গেল না। লাল-হলুদ ব্রিগেডের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠল মাদিহ তালাল।
Advertisement
পাশাপাশি, স্টিফেন এজে শুধু রক্ষণভাগ সামলালেন না, কর্নার পেলে তাঁর বিরাট চেহারা আনোয়ার আলিদের কাছে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ৬০ মিনিটের মাথায় নিকোলার কর্নার থেকে ফাঁকা গোলে এজে জলে বল জড়িয়ে দিয়ে খেলায় সমতা ফেরান। তারপরেই পুরো ম্যাচ দখল করে নেয় জামশেদপুর। তাদের আক্রমণে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগ এলোমেলো হয়ে যায়।
ইস্টবেঙ্গল দলে খেলোয়াড় পরিবর্তন করেও কোনও লাভ হয়নি। শৌভিক চক্রবর্তীর জায়গায় খেলতে আসেন নন্দকুমার। তাঁর ভূমিকা কী ছিল তা বুঝতে পারা গেল না। ৮৭ মিনিটের মাথায় তালালের একটা অসাধারণ ব্যাকহিল দেখতে পাওয়া গেল ম্যাচে। আর সেখান থেকেই দুরন্ত শটে তাচিকাওয়ার গোল করে জামশেদপুরের জয়কে নিশ্চিত করে দেন। মিগুয়েল মাঠে নেমে গোল করার জন্য জায়গা খুঁজছিলেন, কিন্তু তিনি সেই জায়গার সন্ধানে পৌঁছতে পারেননি। দ্বিতীয় পর্বে সংযুক্ত সময়ে সাত মিনিট পেলেও ইস্টবেঙ্গলের খেলোয়াড়রা কোনওভাবেই জামশেদপুরকে চাপের মধ্যে রাখতে পারেননি। যার ফলে তৃতীয় ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গলকে হারের মুখ দেখলে হল জামশেদপুরের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
Advertisement



