অলিভিয়া সরকার
সমালোচকদের কোনও জবাব দিতে চান? ইন্টার কাশী ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রশ্নটা ভেসে এসেছিল ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোর উদ্দেশ্যে। তাঁর কোচিংয়েই দীর্ঘ বাইশ বছরের ট্রফি খরা কেটেছে ইস্টবেঙ্গলের। তাই প্রাথমিকভাবে সেই বিতর্কিত বিষয় নিয়ে ফের একবার মুখ খুলতে কিছুটা হলেও ভাবনা চিন্তা করছিলেন তিনি। তবে, যার জয়সূচক গোলে লাল হলুদ ব্রিগেডের এই দীর্ঘ বাইশ বছরের ট্রফি খরা কাটলো, সেই মহম্মদ রশিদ কিন্তু প্রশ্নের উত্তর দিতে এক মুহুর্তও দেরি করলেন না। কোচের উদ্দেশ্যে ভেসে আসা প্রশ্নের উত্তরে প্যালেস্টাইন মিডফিল্ডারের স্পষ্ট জবাব, সামনে থাকা এই আইএসএল ট্রফিটাই তো সব সমালোচনার একমাত্র জবাব। ছাত্রের এহেন মন্তব্যে কিছুটা হলেও ধাতস্ত হলেন অস্কার। যদিও, স্বপ্নপূরণের রাতে অহেতুক বিতর্ক বাড়াতে চাইলেন না তিনি। বিষয়টি নিয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত উত্তর, “সবাই জানেন কারা দলের ভালো চান। আমি সেইসব মানুষদের নিয়েই কাজ করতে চাই, যারা দলের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারবে।”
Advertisement
অস্কারের উত্তর এখানেই শেষ হলেও যে প্রশ্নের উত্তরটা বৃহস্পতিবার রাতে ইস্টবেঙ্গল কোচ দিলেন না, তা হল দলগত সংহতি। যেটা ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তৈরি করার চেষ্টা করছেন তিনি। আর সেই লক্ষ্যে যে স্প্যানিশ কোচ একশো শতাংশ সফল তা এদিন রশিদের জবাব থেকেই স্পষ্ট।
Advertisement
দীর্ঘ বাইশ বছর বাদে ফের জাতীয় পর্যায়ে ট্রফি জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। অস্কারের হাত ধরেই শাপমুক্তি ঘটেছে আপামর লাল হলুদ জনতার। তবে, এই স্বপ্ন পূরণ করাটা মোটেও সহজ কাজ ছিল না অস্কার বা তাঁর দলের জন্য। যখনই দল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে, কেউ বা কারোর সেটা সহ্য হয়নি। বাইরে থেকে অবাঞ্ছিত কিছু হস্তক্ষেপে দলের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু, দলটা যে অস্কারের। যাদের ভাঙা যায়, দমিয়ে দেওয়া যায় না। তাই তো, দলের অবাঞ্ছিত সমস্যার কথা প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরতে একবারও ভাবেননি লাল হলুদের স্প্যানিশ এই হেড স্যার। নাম করে সরাসরি নিশানা করেছেন তাঁদের। অস্কার নিজেও জানতেন জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডের উপর দিয়ে হাঁটছেন তিনি। তাঁর এহেন কথার পর ফলাফল একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই ফের সমালোচনার ঝড় উঠবে। সহ্য করতে হবে হাজারটা অপমান। তবে, কোচিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে হয়তো ইস্টবেঙ্গল দল ও তার হাজার হাজার ছিন্নমূল সমর্থকদের একটু বেশিই ভালোবেসে ফেলেছিলেন তিনি। তাই তো প্রিয় দলের ভালোর জন্য নিজের চেয়ারের তোয়াক্কা না করেই স্পষ্টভাবে সমস্যাগুলোকে সবার সামনে আনার চেষ্টা করেছেন। যেকোনো সমস্যায় খেলোয়াড়দের রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন একজন আদর্শ গুরুর মতন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা মাথায় রেখেও খেলোয়াড়দের উপর বাড়তি চাপ দেননি। বরং, একটা করে ম্যাচ ধরে এগানোর কথা বলেছেন। তার ফলও পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। মরসুম শেষে চির প্রতিদ্বন্দ্বীকে গোল ব্যবধানে টপকে দীর্ঘ ২২ বছর পর ফের একবার জাতীয় পর্যায়ের খেতাব জিতে নিয়েছে তারা।
শুধু ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল নয়। দলের তিন-তিনজন ফুটবলার বিশেষ সম্মানে সম্মানিত হয়ে লাল-হলুদ ব্রিগেডকে উজ্জ্বল করলেন। আইএসএল ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেলেন ইউসেফ এজ্জেজারি। পাশাপাশি, সোনার বল জিতে নিলেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মিগুয়েল ফিগুয়েরা। শুধু তাই নয়, এবারের আইএসএলে সেরা গোলরক্ষক হিসেবে সোনার গ্লাভস পেলেন ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিল। এই টুর্নামেন্টে ১৩টি ম্যাচ খেলে তাঁর নামের পাশে পাঁচটি ক্লিনশিট রয়েছে। আসলে লাল-হলুদ ব্রিগেড যেন দেখিয়ে দিল বাইরে থেকে সমালোচনা হয়, কিন্তু আসল খেলাটা মাঠেই হয়।
Advertisement



