• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 22 June, 2026

ক্ষুদ্র দ্বীপের মহানায়ক, বিশ্বমঞ্চে গোলরক্ষক রুমের উত্থান

নেদারল্যান্ডসের নাইমেখেনে জন্ম নেওয়া রুম একটা সময়ে নেদারল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলেছিলেন

বিশ্বকাপ তারকার জন্ম দেয়। আর সেই মঞ্চেই শনিবার রাতে আলোচনায় উঠে এলেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করলেন তিনি। তাঁর দুরন্ত এই পারফরম্যান্সের সুবাদে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল কুরাসাও।

এদিন ম্যাচজুড়ে ইকুয়েডরের কার্যত একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও একটিও গোল করতে পারেনি তারা। নেপথ্যে অবশ্যই ৩৭ বছর বয়সি এলয় রুম। এই ম্যাচে, কুরাসাওয়ের গোলপোস্টের নিচে একপ্রকার প্রাচীর হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ম্যাচের তিন মিনিট নাগাদ এননার ভ্যালেন্সিয়ার শট আটকে দেওয়ার পর থেকে তাঁর একের পর এক দুরন্ত সেভ বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট এনে দিলেন কুরাসাওকে।

এই পারফরম্যান্সের ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন রুম। নেদারল্যান্ডে জন্মানো এই গোলরক্ষক এদিন পুরো ম্যাচজুড়ে পনেরোটি সেভ করেছেন। যা বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড পনেরোটি সেভ করলেও সেই ম্যাচ গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে।

নেদারল্যান্ডসের নাইমেখেনে জন্ম নেওয়া রুম একটা সময়ে নেদারল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলেছিলেন। পরে সিনিয়র দলে সুযোগ না পাওয়ায় শিকড়ের টানে কুরাসাওয়ের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মূলত প্রাক্তন ডাচ তারকা প্যাট্রিক ক্লুইভার্টের আহ্বানেই কুরাসাওয়ের জাতীয় দলে খেলার সিদ্ধান্ত নেন রুম। তবে শুধু নিজে একা নন, ইউরোপে খেলা অন্যান্য কুরাসাও বংশোদ্ভূত ফুটবলারদেরও জাতীয় দলে আসতে উৎসাহিত করেছিলেন তিনি। তাঁর প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে থাকে কুরাসাও।

দেশের হয়ে সত্তরটি’র বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা রুম কুরাসাওয়ের উত্থানের সাক্ষী। প্রায় এক দশকের বেশি সময় জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ক্যারিবিয়ান কাপ জয় থেকে শুরু করে প্রথমবার বিশ্বকাপের আসরে জায়গা করে নেওয়া, সবকিছুরই সাক্ষী থেকেছেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ দিকে ক্লাবহীন হয়ে পড়েন রুম। ডাচ ক্লাব ভিটেসের আর্থিক সংকট এবং পরে বেলজিয়ামের সের্কল ব্রুজে স্বল্প সময় কাটানোর পর কার্যত বসেছিলেন তিনি। তা সত্ত্বেও জিমে ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ, আলাদা গোলরক্ষক কোচের তত্ত্বাবধানে নিজের মতো অনুশীলন চালিয়ে গেছেন।

এই প্রসঙ্গে বলা যায়, ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা দুই লাখেরও কম। সেই দেশের হয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে আবেগাপ্লুত রুম বলেন, এটা সারাজীবন মনে রাখার মতো মুহূর্ত। তবে, সাফল্যের কৃতিত্ব দলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। হয়তো, রুম’রা এমনই হন। সাফল্য ছুঁয়েও যাঁদের পা সবসময় মাটিতেই থাকে।