আয়ারল্যান্ডে সিরিজ হারের পর ইংল্যান্ডে পৌঁছে গেল ভারতীয় দল। টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে তারা চেস্টার লি স্ট্রিটের মাঠে নেমে পড়ছে বুধবারই। আইরিশদের হাতে সদ্য দুরুমুশ হওয়া ভারতীয় দল এই সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তবে ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করবেন তাঁরা।
প্রথম ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে এসে শ্রেয়স বলেন, “আয়ারল্যান্ডের কাছে হার লজ্জাজনক ছিল না, তবে আমাদের কাছে খুব হতাশাজনক ছিল। কারণ, আমরা একেবারেই আশা করিনি যে আয়ারল্যান্ড এত ভালো খেলবে। ওরা প্রতিটি বিভাগেই আমাদের ছাপিয়ে গিয়েছিল। মাঠের আকার-আয়তন কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, সে সম্পর্কে ওদের পরিকল্পনা ছিল অসাধারণ। আর আমরা মাঠের মাপ, তার বৈশিষ্ট্য, উইকেট কীভাবে আচরণ করবে— এসব ঠিকমতো বিশ্লেষণ ও পরিকল্পনা করতে পারিনি। তাই কৃতিত্ব ওদেরই প্রাপ্য। তবে সেই সিরিজ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।”
এই শিক্ষা কাজে লাগিয়েই ইংল্যান্ডে ভাল করতে চায় ভারতীয় দল, জানালেন শ্রেয়স। ভারত অধিনায়ক বলেন, “ইংল্যান্ডে আমাদের সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায় শুরু হবে। আমাদের মধ্যে কয়েকজন এর আগে ইংল্যান্ডে খেলেছে। এখানকার পরিবেশ, কন্ডিশন, কীভাবে খেলতে হয় এবং মাঠের আকার-আয়তন—এসব সম্পর্কে আমাদের ভালো ধারণা রয়েছে। তাই আমরা একটি কঠিন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং রোমাঞ্চকর সিরিজের অপেক্ষায় রয়েছি।”
বেলফাস্টে যে দুর্বলতাগুলো ভারতীয় দলকে ভোগায়, সেগুলি আর এই সিরিজে থাকবে না বলে মনে করেন শ্রেয়স। তিনি বলেন, “না, সেই দুর্বলতাগুলো এখন আর নেই। আগেই বলেছি, আমাদের মধ্যে কয়েকজন এর আগে ইংল্যান্ডে খেলেছে। এখানকার উইকেট কেমন আচরণ করে, সেটা আমরা জানি। টেলিভিশনেও নিয়মিত এখানকার ক্রিকেট দেখি। কিন্তু বেলফাস্টে আমরা অনেক বছর পর খেলতে গিয়েছিলাম। এটা কোনো অজুহাত নয়। তবে ওখানে গিয়ে উইকেট ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদের একটু সময় লেগেছিল। আউটফিল্ডের আচরণ ঠিকমতো বুঝতে এবং সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলাম।”
আয়ারল্যান্ড সিরিজে ব্যাট হাতে বড় রান করতে পারেননি শ্রেয়স। তবে নিজের ফর্ম নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। তাঁর বিশ্বাস, রান খুব শিগগিরই আসবে। অধিনায়কত্ব তাঁর ব্যাটিংয়ের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে শ্রেয়স বলেন, “একেবারেই না। নেটে আমি যেভাবে টাইমিং করছি, এমনকি আগের ম্যাচেও আমার মনে হয়েছে আমি দারুণভাবে টাইমিং করছিলাম। শুধু দু-একটা বল অস্বাভাবিকভাবে বাউন্স করেছে এবং ব্যাটের ইনার এজে লেগেছে। এটা নিয়ে বেশি চিন্তার কিছু আছে বলে মনে হয় না আমার। ” নিজের ফর্ম নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি সব সময় নিজের সহজাত প্রবৃত্তি ও সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রাখি। চাপের মুখে আমি কতটা ভালো খেলতে পারি, সেটা আমি জানি। তাই নিজের উপর সেই বিশ্বাস অটুট রেখে আগামী ম্যাচগুলোতে খেলতে চাই।”
ইংল্যান্ড সদ্য শেষ হওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে সরাসরি টি-২০ ক্রিকেটে নামছে। তাই হোম টিম কিছুটা অসুবিধায় পড়তে পারে, এমন ধারণাকেও গুরুত্ব দিতে চান না ভারতের অধিনায়ক। বলেন, “ইংল্যান্ড দলের ভেতরে কী চলছে, সেটা আমি নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে টেস্ট ক্রিকেট থেকে সাদা বলের ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে নতুন কিছু নয়। দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই এর আগে বহুবার এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। তাই আমার বিশ্বাস, এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ওদের কোনও সমস্যা হবে না।” আয়ারল্যান্ডের মতো ইংল্যান্ডেও সিরিজ শুরুর আগে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হলো, ১৫ বছর বয়সি বৈভব সূর্যবংশী কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সুযোগ পাবেন? তবে এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন অধিনায়ক শ্রেয়স।
তিনি বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা দলের মধ্যে এসব নিয়ে আলোচনা করি। কোন কম্বিনেশন নিয়ে খেলব, সেটা সবাইকে জানাতে পারি না বা প্রতিপক্ষকে আগেভাগে বুঝিয়ে দিতে পারি না যে আমাদের পরিকল্পনা কী।” বৈভব সূর্যবংশী সম্পর্কে শ্রেয়স বলেন, “নিশ্চিতভাবেই ও একজন অসাধারণ প্রতিভা। আর যখনই ও খেলার সুযোগ পাবে, আমার বিশ্বাস, ও দারুণ পারফরম্যান্স করবে।” এর বেশি অবশ্য কিছু বলতে চাননি ভারত অধিনায়ক। যা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ১৫ বছর বয়সি বৈভব সূর্যবংশীকে আন্তর্জাতিক অভিষেকের জন্য হয়তো আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।
নিজেদের ঘরের মাঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের তুলনায় ইংল্যান্ড দল যে অনেক বেশি সংগঠিত থাকবে, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দলের অন্যতম সেরা পেসার জোফ্রা আর্চার যদিও স্কোয়াডে রয়েছেন, তবু টেস্ট ম্যাচ খেলার মাত্র দু’দিন পর প্রথম টি-২০ ম্যাচে তাঁর খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। তাঁর পরিবর্তে প্রথম ম্যাচে সুযোগ পেতে পারেন সনি বেকার অথবা লুক উড। এই ম্যাচে ফিরে আসতে পারেন বরুণ চক্রবর্তী। তাঁর প্রত্যাবর্তনে নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়বে ভারতের। তবে তাঁর দলে ফেরা মানেই কঠিন একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। কারণ অর্শদীপ সিং, হর্ষিত রানা এবং প্রিন্স যাদব—এই তিন পেসারের মধ্যে একজনকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখতে হতে পারে।




