২০২৬ বিশ্বকাপে স্মরণীয় এক অভিযান শেষে কেপ ভার্দের প্রধান কোচ বুবিস্তা বলেছেন, এই টুর্নামেন্টে তাঁর দল নিজেদের আসল পরিচয় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পেরেছে। দলের পারফরম্যান্সে তিনি গর্বিত। বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠার সাফল্য অর্জন করতে না পারলেও তারা মাথা উঁচু করেই দেশে ফিরছে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র, সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র এবং প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সঙ্গেও ড্র—এই ফলগুলোই তাদের প্রথম বিশ্বকাপেই কেপ ভার্দেকে শেষ বত্রিশে খেলার যোগ্যতা এনে দিয়েছিল।
ম্যাচ শেষে ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বুবিস্তা বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সামনে আমাদের দেশের সন্মান তুলে ধরতে পেরেছি। আমরা দু’বার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ড্র করেছি, আর আর্জেন্টিনার মতো দলকেও অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে বাধ্য করেছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বিশ্বকাপে আমাদের ফুটবলাররা যেভাবে দেশের সম্মান রক্ষা করেছে, তাতে আমি গর্বিত।আমরা আমাদের নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরতে পেরেছি।’
এ দিন মিয়ামিতে ২৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির অসাধারণ দক্ষতায় আসে ম্যাচের প্রথম গোল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আর্জেন্টিনাকে দেখে মনে হচ্ছিল স্বস্তিতেই রয়েছে তারা। কিন্তু বিরতির পর নতুন উদ্যমে মাঠে নামে কেপ ভার্দে এবং ঘড়ির কাঁটা ৬০ মিনিট ছোঁয়ার আগেই কঠিন কোণ থেকেও আত্মবিশ্বাসী ফিনিশে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলা কেপ ভার্দের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ডেরয় দুয়ার্তে।
এরপর আর্জেন্টিনা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও প্রতিবারই তাদের হতাশ করেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া এবং ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা নেন তিনি। অতিরিক্ত সময় শুরু হওয়ার পর ৯২তম মিনিটেই আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা এতেও ভেঙে পড়েননি। সিডনি কাবরাল কঠিন কোণ থেকে অসাধারণ বাঁকানো শটে ফের স্কোরলাইন ২-২ করে দেন।
শেষ পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি তারা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে মেসির নেওয়া কর্নারে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর শক্তিশালী হেড ডিনেই বোর্হেসের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। এই আত্মঘাতী গোলই আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দেয়। তবে অভিষেক বিশ্বকাপেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে যে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেল কেপ ভার্দে, এই কৃতিত্বের জন্যই বিশ্ব ফুটবলের প্রশংসা কুড়োচ্ছে তারা।




