এক দিকে মহম্মদ শামি-মুকেশ কুমারের আগুনে বোলিং, অন্য দিকে ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে ঝড়— সব মিলিয়ে মধ্যাঞ্চলকে চার উইকেটে হারিয়ে দলীপ ট্রফির ফাইনালে উঠে পড়ল পূর্বাঞ্চল।
মঙ্গলবার মধ্যাঞ্চলকে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৫৮ রানে গুটিয়ে দেন শামি-মুকেশরা। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫৯ রান। সেই রান তাড়া করতে নেমে বৈভব ৪০ রান করেন। পরে অধিনায়ক ইশান কিষাণের অপরাজিত ৩৯ রানের দাপটে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পূর্বাঞ্চল। শেষ পর্যন্ত জয়সূচক রানটি আসে শামির ব্যাট থেকে— তাঁর সংগ্রহ ৮ রান।
শামি-মুকেশের দাপট
প্রথম ইনিংসে দু’দলই ২৬৬ রানে অলআউট হয়েছিল। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করে দেয়। সেখানেই বল হাতে জ্বলে ওঠেন শামি ও মুকেশ।
মধ্যের দ্বিতীয় ইনিংসে শামি ১৬ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে তাঁর ঝুলিতে ছিল আরও দু’টি উইকেট। অর্থাৎ ম্যাচে মোট পাঁচ উইকেট শামির। মুকেশ আরও ভয়ঙ্কর। ১২ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে চার উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি প্রথম ইনিংসের তিন উইকেট মিলিয়ে ম্যাচে মোট সাত উইকেট নেন তিনি।
মধ্যাঞ্চলের হয়ে আমন মোখাড়ে ৪১ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। অর্জুন খান করেন ২৫। হর্ষ দুবে করেন ২৪। কিন্তু একের পর এক উইকেট হারিয়ে ৫০.২ ওভারে ১৫৮ রানেই শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস।
শামির দুর্দান্ত ফিল্ডিংও নজর কাড়ে। হর্ষ দুবের সোজা ড্রাইভে এক হাত দিয়ে মাটির মাত্র কয়েক ইঞ্চি উপর থেকে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন তিনি নিজেই।
বৈভবের ব্যাটে শুরু, ইশানের হাতে শেষ
১৫৯ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে বেশ সতর্ক ছিলেন বৈভব। প্রথম ৩০ বলে তাঁর রান ছিল মাত্র ১৬। আগের ইনিংসে যেখানে প্রথম ৩০ বলে ৪৩ রান করেছিলেন, সেখানে এ বার নতুন বলের বিরুদ্ধে ধৈর্য্য দেখান তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার।
তবে ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন। যশ ঠাকুরের এক ওভারে পর পর তিনটি চার ও একটি ছক্কা মেরে ম্যাচের পাল্লা নিজেদের দিকে আরও ভারি করে নেন। শেষ পর্যন্ত ঠাকুরের বলেই ৪০ রানে আউট হন বৈভব। ৪৩ বলের ইনিংসে তিনি মারেন তিনটি চার ও দু’টি ছয়।
বৈভবের সঙ্গে প্রথম উইকেটে ৬১ রানের জুটি গড়েছিলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ। তিনি করেন ২৪। এর পর বাঁহাতি স্পিনার হর্ষ দুবে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন। একে একে বিরাট সিং (১২), কুমার কুশাগ্র (২২) এবং অনুকূল রায়কে (০) ফিরিয়ে চার উইকেট নেন তিনি। তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ১১ ওভারে ৩৯ রানে চার উইকেট।
কিন্তু ইশান কিষাণ মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ বার করে নেন। তাঁর ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংসেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে পূর্বাঞ্চল।
এই ম্যাচে অবশ্য বৈভবের নাম আগেই ইতিহাসে উঠে গিয়েছিল। দ্বিতীয় দিনের প্রথম ইনিংসে ৯২ রান করে তিনি দলীপ ট্রফির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে হাফ সেঞ্চুরি করার নজির গড়েন।
প্রথম ইনিংসে অভিমন্যু ঈশ্বরণের সঙ্গে ১৬১ রানের ওপেনিং জুটিও গড়েছিলেন বৈভব। ঈশ্বরণ করেছিলেন ৬৯। যদিও সেই ইনিংসে ২৬৬ রানেই শেষ হয়ে যায় পূর্বাঞ্চলের ইনিংস।
এ বার ফাইনালের অপেক্ষা। পূর্বাঞ্চলের মতো গত বারের চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে পূর্বাঞ্চল। সামনে ট্রফির লড়াই— আর সেখানে শামি-মুকেশের অভিজ্ঞতা, ইশানের নেতৃত্ব এবং বৈভবের বিস্ফোরক ব্যাটিংই হয়ে উঠতে পারে পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।




