• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 1 July, 2026

মুম্বই ছাড়তে পারেন হার্দিক ! দৌড়ে কেকেআর-সহ সাত ফ্র্যাঞ্চাইজি, এগিয়ে কারা?

বোর্ডের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা সাধারণত শুধুমাত্র চোট সারানো, ফিটনেসের মূল্যায়ন বা জাতীয় দলের শিবিরে অংশ নেওয়ার জন্যই সেন্টার অব এক্সেলেন্সে যান।

মুম্বই ছাড়তে পারেন হার্দিক ! দৌড়ে কেকেআর-সহ সাত ফ্র্যাঞ্চাইজি, এগিয়ে কারা?

আইপিএলের দলবদল শুরুর আগেই জোর জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন তারকা ক্রিকেটারকে নিয়ে। সবচেয়ে বেশি চর্চা হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিক দল ছেড়ে দিতে পারেন বলে খবর। আর তাঁকে দলে নিতে ইতিমধ্যেই আগ্রহ দেখিয়েছে সাত-সাতটি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি। যার মধ্যে কলকাতা নাইট রাইডার্সও (কেকেআর) রয়েছে। জানা গিয়েছে, এই দৌড়ে নাকি সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে)।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের বক্তব্য, হার্দিককে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী দলগুলির মধ্যে নেই শুধুমাত্র রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (এসআরএইচ)। বাকি সাতটি ফ্র্যাঞ্চাইজিই ভারতীয় অলরাউন্ডারকে দলে নিতে আগ্রহী। তবে সবচেয়ে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস, কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং রাজস্থান রয়্যালস।

২০১৫-য় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে যোগ দেন হার্দিক। ২০২১ পর্যন্ত সেখানে খেলার পর গুজরাট টাইটান্সে যোগ দেন এবং অধিনায়কত্বও পান। প্রথম মরশুমেই দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন এবং পরের বছর ফাইনালে তোলেন তিনি। এর পর ফের মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে ফিরে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন তিনি।

তবে তাঁর নেতৃত্বে গত তিনটি আইপিএল মরসুমে মুম্বইয়ের ফল আশানুরূপ হয়নি। দল যথাক্রমে দশম, তৃতীয় এবং নবম স্থানে থেকে শেষ করে। সেই কারণেই তাঁর দল বদল নিয়ে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

একদিকে কেকেআর নতুন অধিনায়কের খোঁজে রয়েছে এবং হার্দিককে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিতেও আগ্রহী। অন্যদিকে, চেন্নাই সুপার কিংসও তাঁকে দলে টানতে মরিয়া। ভবিষ্যতের নেতৃত্বের কথা মাথায় রেখেই সিএসকে এই পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত হার্দিক, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বা অন্য কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। ফলে আপাতত পুরো বিষয়টিই দলবদলের বাজারে জল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সংবাদসংস্থা পিটিআই দাবি করেছে, হার্দিক তাঁর ক্রিকেট জীবনের বাকি সময়ের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সেন্টার অব এক্সেলেন্স (সিওই)-কেই স্থায়ী অনুশীলন কেন্দ্র হিসেবে ধরে নিয়েছেন। এবং সেই কারণেই বেঙ্গালুরুতে স্থায়ীভাবে চলে গিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তকে ব্যতিক্রমী বলা হচ্ছে। কারণ, বোর্ডের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা সাধারণত শুধুমাত্র চোট সারানো, ফিটনেসের মূল্যায়ন বা জাতীয় দলের শিবিরে অংশ নেওয়ার জন্যই সেন্টার অব এক্সেলেন্সে যান। যদিও হার্দিক থাকেন গুজরাটের বরোদায়, গত এক দশকের বেশিরভাগ সময় তিনি মুম্বইয়ে থেকেছেন এবং মূলত আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ঘানসোলির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুশীলন করেছেন।

৩২ বছর বয়সি হার্দিক বর্তমানে কোয়াড্রিসেপসের চোটের চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এই চোটের কারণেই তিনি চলতি ইংল্যান্ড সফরে ওয়ান ডে সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন। গত ছ’মাসে তিনি সেন্টার অব এক্সেলেন্সে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।
বিসিসিআইয়ের এক কর্তা সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, “হার্দিক ইতিমধ্যেই স্থায়ীভাবে বেঙ্গালুরুতে চলে এসেছে। শহরের কাছেই, সেন্টার অব এক্সেলেন্সের কাছাকাছি একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছে সে। কেরিয়ারের বাকি সময় ও সিওই-তেই অনুশীলন করবে। এই ব্যাপারে সে-ই প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হতে চলেছে।”

এই কর্তা আরও জানান, “হার্দিক মুম্বই ছাড়তে চেয়েছিল, কারণ লোয়ার পারেলের বাড়ি থেকে প্রতিদিন অনুশীলনের জন্য যাতায়াত করা তার কাছে সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার হিসেবে সেন্টার অব এক্সেলেন্সে চোটের চিকিৎসা থেকে শুরু করে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ—সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই সে পাবে। সেই কারণেই আইপিএল, রাজ্য দল বা জাতীয় দলে না খেললে সেন্টার অব এক্সেলেন্সকেই নিজের স্থায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হার্দিক”।