সারা দুনিয়ার সমালোচকদের মুখে কুলুপ আটকে দিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও পর্তুগাল ফুটবল দলের লাগল ৯০ মিনিট। পুরো ৯০ মিনিট বললেও বোধহয় ভুল হবে। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটেই ফুটবলবিশ্ব বুঝে নেয় রোনাল্ডোর নেতৃত্বে পুরো পর্তুগিজ বাহিনীই ফিরে এসেছে তাদের নিজস্ব ছন্দে। কারণ, ততক্ষণে তারা ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছে এবং তার মধ্যে রোনাল্ডোরই জোড়া গোল। ম্যাচের পর যখন উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫-০ জয়ের সেলিব্রেশনে মেতে ওঠে সারা স্টেডিয়াম এবং রোনাল্ডোর সতীর্থরাও, তখন যেন একটাই বার্তা ভেসে এল, অতীত ভুলে যাও, এ বার জমবে আসল বিশ্বকাপ।
এতদিন ফুটবল দুনিয়া অবাক বিস্ময়ে প্রশ্ন তুলেছে, বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, এরলিং হালান্ড, হ্যারি কেন-রা। অথচ রোনাল্ডো ম্লান কেন? এতদিনে সেই জবাব পেয়ে গেল সবাই। রোনাল্ডো ম্লান নন, তাঁর জ্বলে উঠতে একটু সময় লাগল মাত্র। মঙ্গলবার হিউস্টনে দুটো গোল করেন পর্তুগিজ তারকা। আরও দুটো করতে পারতেন। কিন্তু সেকেন্ডের ভগ্নাংশের দেরিতে, তা হয়নি।
এই দুর্দান্ত পাঁচতারা জয়ে শুধু তিন পয়েন্টই পায়নি পর্তুগাল, ইতিহাসও গড়েছেন অধিনায়ক রোনাল্ডো। জোড়া গোল করে তিনি ভেঙে দিয়েছেন পর্তুগালের বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক ৬০ বছরের পুরনো রেকর্ড, যা এতদিন ধরে কিংবদন্তি ইউসেবিওর দখলে ছিল।বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বাধিক গোলদাতার তালিকায় এতদিন শীর্ষে ছিলেন ইউসেবিও। ১৯৬৬-র বিশ্বকাপে তাঁর করা গোলসংখ্যা ছুঁতে পারেননি দেশের আর কোনও ফুটবলার। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ কে-র ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দুই গোল করে সেই নজির ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখলেন ৪১ বছর বয়সি রোনাল্ডো।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক পর্তুগাল প্রথমার্ধেই রোনাল্ডোর জোড়া গোলে এগিয়ে যায়। পরে নুনো মেন্ডেজ , উজবেক গোলরক্ষকের আত্মঘাতী গোল এবং রাফায়েল লিয়াওয়ের গোল মিলিয়ে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-০।এই ম্যাচে আরেকটি বিরল নজিরও গড়েন রোনাল্ডো। তিনি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছ’টি বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। ২০০৬ সালে জার্মানিতে প্রথম বিশ্বকাপ গোলের পর টানা পাঁচটি বিশ্বকাপের প্রতিটিতে তাঁর নাম উঠেছে গোলদাতাদের তালিকায়।
প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর বিরুদ্ধে হতাশাজনক ড্রয়ের পর রোনাল্ডোকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জবাব দিলেন মাঠেই। ম্যাচ শেষে আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। টিভি ক্যামেরার সামনে চিৎকার করে ওঠেন, “আমি ফিরে এসেছি, আমি ফিরে এসেছি”। পরে জানান, ব্যক্তিগত নজিরের চেয়ে দলের উন্নত পারফরম্যান্সই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ কে-তে নকআউট পর্বে ওঠার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল পর্তুগাল। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে উজবেকিস্তানের বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ৪১ বছর বয়সেও রোনাল্ডো যেন প্রমাণ করে চলেছেন, রেকর্ড ভাঙা এখনও তাঁর অভ্যাস। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে ইউসেবিওকে ছাপিয়ে যাওয়া তাঁর সোনায় মোড়া কেরিয়ারে আরেকটি উজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে রইল।




