• facebook
  • twitter
Monday, 9 February, 2026

রোহিত-কোহলি বুঝিয়ে দিলেন তাঁদের ব্যাটে দলের জয় আসতে পারে

অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ভারতের মানরক্ষা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

তিনটি একদিনের সিরিজে ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া দুটো ম্যাচ জিতে নওয়ার পরেই স্বাভাবিকভাবেই তৃতীয় ম্যাচটির হয়তো সেইভাবে গুরুত্ব থাকে না। নিরমরক্ষার ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলে বেশ কয়েকটা পরিবর্তন আনা হয়। তবুও ভারতীয় দলের কাছে সম্মানের প্রশ্ন ছিল। যদি এই ম্যাচটাতেও ভারতীয় ব্রিগেড হেরে যেত, তাহলে লজ্জার সফর হিসেবে চিহ্নিত হত। আর এই ম্যাচেই সম্মান রক্ষার্থে দুরন্ত ব্যাট করলেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। এই দুই অবিচ্ছিন্ন জুটির হাত ধরেই ভারত ৯ উইকেটে জয় তুলে নিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে।

অনেকেই সমালোচনার তির বারবার ছুঁড়ে দিচ্ছিলেন এই দুই তারকা ক্রিকেটারের উদ্দেশ্যে। কিন্তু কোনও সময়ের জন্যই এই দুই ক্রিকেটার সমালোচনাকে কর্ণপাত না করে বুঝিয়ে দিতে পেরেছেন তাঁদের ব্যাট এখনও হারিয়ে যায়নি। বিশেষ করে কোচ গৌতম গম্ভীর ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরকে জানান দিয়ে গেলেন রোহিত ও বিরাট। তাঁদেরই হাত ধরে ভারতের ৯ উইকেটে জয়টা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। অস্ট্রেলিয়ার ২৩৬ রানের জবাবে ভারত ৩৮.৩ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রান করে। অবশ্যই বড় জয় ভারতের। এখন তো অনেকেই বলতে দ্বিধা করবেন না, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি জুটির পথ হারিয়ে যায়নি।

Advertisement

একদিনের ক্রিকেটে তাঁরা বড় ভূমিকা নিয়ে ভারতকে জয়ের মুখ দেখাতে পারেন। শনিবারের খেলায় রোহিত শর্মার ব্যাট থেকে এসেছে ১২১ রান। আর বিরাট কোহলির ব্যাটে ঝলসে উঠেছে ৭৪ রান। দু’জনেই কিন্তু নট আউট ছিলেন। ভারতের অধিনায়ক শুভমন গিলের উইকেটটা শুধু হারাতে হয়েছে। জোশ হ্যাজেলউডের বলে শুভমন ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন অ্যালেক্স ক্যারের হাতে। শুভমনের ব্যাটে তখন ২৪ রান এসেছিল। তারপরেই তো রোহিত ও বিরাট ভারতের হাল ধরে প্রমাণ করে দিয়েছেন, যে কোনও পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে জয়ের পথকে উজ্জ্বল করা যায়।

Advertisement

প্রথম একদিনের ম্যাচে রোহিতের ব্যাট থেকে সেই অর্থে ভালো রান আসেনি। কিন্তু বিরাট কোহলি পরপর দুটো ম্যাচে কোহলি শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত গিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই মানসিক চাপে কোহলি জর্জরিত হয়ে গিয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে রোহিত সাতের ঘরে রান করে ছন্দে ফিরে এসেছিলেন। তাই এদিন সিডনিতে হাজির থাকা দর্শকরা তবুও খেলা দেখতে এসেছিলেন রোহিত আর বিরাটের। এই দুই ক্রিকেটার তাঁদের কাছে বার্তা দিয়ে গেলেন ব্যাট প্রয়োজনে ঝলসে উঠতে জানে। আর ক্রিকেটটা সবসময় অনিশ্চয়তার খেলা।

দীর্ঘদিন বাদে রোহিত ও কোহলি ঝুঁকিহীন ইনিংস খেললেন। রোহিতের বয়স ৩৬ আর কোহলি ৩৮ বছরে দাঁড়িয়েও সাহসী ব্যাট করার ক্ষমতা রাখে। এই দুই ব্যাটসম্যানকেই দু’টি একদিনের ম্যাচের পরেই বুড়ো ঘোড়া বলে চিহ্নিত করেছিলেন। এমনকি অনিশ্চয়তার কানাগলিতে ঠেলে দিয়েছিলেন অনেকেই। তাঁদের সপাটে জয় দিয়ে বলেছেন, এখনও বুড়ো ঘোড়া রেসে বাজিমাত করতে জানে। ভারতীয় দলে কুলদীপ যাদবকে জায়গা দেওয়া হয়েছিল। কুলদীপ কিন্তু একটা উইকেট পেয়েছিলেন।

তবে হর্ষিত রানা চারটি উইকেট তুলে নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৩৬ রানে সবাই আউট হয়ে যান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাইকেল শর্ট ৩০, মিচেল রেনশ ৫৬ এবং মিচেল মার্শ ৪১ রান করে অস্ট্রেলিয়ার স্কোরবোর্ডকে ভদ্রস্থ করেছিলেন।

যতই বলা হোক না কেন, ভারতের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলছে। ক্রিকেট মাঠের যুদ্ধে কোনও সময় বন্ধুত্ব কথাটা জায়গা পায় না। শেষ পর্যন্ত ভারত ১ উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রান করে ৯ উইকেটে জয়লাভ করে। রোহিত শর্মা ১২১ রান করার ফাঁকে ১২৫টি বল খেলেছেন। তার মধ্যে ১৩টি চার ও তিনটি ছক্কা রয়েছে। আর বিরাট কোহলি ৮১ বলে ৭৪ রান করেছেন। মেরেছেন সাতটি চার। দু’জনেই উইকেটে থেকে নটআউট হয়ে ভারতের মানরক্ষা করলেন। এটাই তো বড় প্রাপ্তি।

Advertisement