• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 3 August, 2026

ভারতের পদকজয়ীদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা, শতবর্ষের কমনওয়েলথ গেমসের ব্যাটন উঠল ভারতের হাতে

১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ৩৯টি পদক জিতে পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করল ভারত। আর এই সাফল্যের পরেই গোটা ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

ভারতের পদকজয়ীদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা, শতবর্ষের কমনওয়েলথ গেমসের ব্যাটন উঠল ভারতের হাতে

Photo: Representational Image

ভারতের গর্বের অধ্যায় লিখে শেষ হল কমনওয়েলথ গেমস। ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ৩৯টি পদক জিতে পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করল ভারত। আর এই সাফল্যের পরেই গোটা ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।

সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) লেখেন, ‘কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ আমাদের ক্রীড়াবিদরা অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তাঁদের নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম এবং দেশের জন্য লড়াই করার মানসিকতা প্রতিটি ভারতীয়কে গর্বিত করেছে। পুরো দলকে আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা’।

আরও পড়ুন: ডুরান্ড কাপে দ্বিতীয় ম্যাচেই হার মহমেডানের, তাদের হারাল অনামী এক ক্লাব!

রবিবার রাতে গ্লাসগোয় কমনওয়েলথ গেমসের যবনিকা নামল এবং তার সঙ্গেই শুরু হয়ে গেল ভারতের নতুন স্বপ্নযাত্রা। সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মঞ্চে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্বের সামনে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক শহর হিসেবে আহমেদাবাদকে তুলে ধরে ভারত। সুর, নৃত্য, আলোকসজ্জা এবং ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে সারা বিশ্বের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া হল— ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’, অর্থাৎ ‘পৃথিবী এক পরিবার’।

গ্লাসগোয় ভারতের এই অভিযান শুধুমাত্র পদকের সংখ্যার জন্য নয়, একাধিক ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শেষের আগের দিনই ভারত এক দিনে রেকর্ড ১৬টি পদক জিতে পদক তালিকায় চতুর্থ স্থান কার্যত নিশ্চিত করে দেয়। বিশেষ করে বক্সিংয়ে সাতটি সোনা জিতে নজির গড়েন ভারতীয় বক্সাররা। অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, জুডো এবং ভারোত্তোলনেও আসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

মীরাবাই চানু টানা তৃতীয় কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে নিজের আধিপত্য বজায় রাখেন। অন্য দিকে তেজস্বিন শঙ্করের ডেকাথলনের পদক, অস্মিতা দে-র জুডোয় ঐতিহাসিক সোনা এবং গুলবীর সিংয়ের দু’টি পদক ভারতের সাফল্যের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন:এক দিনেই ইতিহাস! বক্সিংয়ে সাত সোনা, কমনওয়েলথে ভারতের নজিরবিহীন সাফল্য, উজ্জ্বল জুডো ও প্যারা অ্যাথলিটরাও

এই সাফল্যের মধ্যেই ভারতের সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য। ২০৩০-এ আহমেদাবাদে বসবে কমনওয়েলথ গেমসের আসর। গ্লাসগোর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভারতের হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে গেমসের পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী চার বছর ভারতের প্রস্তুতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে নিজেদের মাটিতে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন ও সর্বকালের সেরা সাফল্য অর্জনের স্বপ্ন।

গেমসের ঐতিহ্য মেনে রবিবার রাতে সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয় গেমসের পতাকা এবং হোস্ট ব্যাটন। সেই প্রতীকী মুহূর্তে ভারত জানিয়ে দেয়, শতবর্ষের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের জন্য তারা প্রস্তুত।

সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভারতের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল নজরকাড়া। শাস্ত্রীয় নৃত্য থেকে আধুনিক কোরিওগ্রাফি, লোকসংস্কৃতি থেকে প্রযুক্তিনির্ভর আলোকসজ্জা— সব মিলিয়ে কয়েক মিনিটের এই উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে ভারতের বৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্য। অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল, ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’, যা ভারতের হাজার বছরের দর্শনের অন্যতম ভিত্তি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে ভারত তুলে ধরে আতিথেয়তা, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির বার্তা।

গ্লাসগোয় ভারতের সাফল্যও ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ৩৯টি পদক জিতে পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে ভারত। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার নজর ২০৩০-এর দিকে।

২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমসে পূর্ণ হবে এই প্রতিযোগিতার শতবর্ষ। দিল্লির পর দ্বিতীয় বার ভারতের মাটিতে বসতে চলেছে বিভিন্ন খেলার এই আসর। ভারতীয় ক্রীড়া প্রশাসকদের আশা, শুধু সফল আয়োজনই নয়, এই গেমস ভবিষ্যতে অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নপূরণের দিকেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠবে।