অবশেষে সমস্ত জটিল অঙ্ক ও জল্পনার অবসান। শনিবার বারাসত স্টেডিয়ামে মহমেডান স্পোর্টিংকে ৩-২-এ হারিয়ে আট বছর পরে ফের কলকাcতা ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতে নিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। স্বাধীনতার পরে এই নিয়ে ৩১বার লিগ খেতাব জিতে নিল তারা।
এক সময়ে যে লিগ ছিল বাংলার ফুটবলের নিউক্লিয়াস ও সারা ভারতের ফুটবলের অন্যতম সেরা আকর্ষণ, সেই কলকাতা ফুটবল লিগ এতদিন তার জৌলুস হারিয়েছিল প্রতিযোগিতার অভাবে। কিন্তু এ বার লিগের একেবারে শেষ পর্যায়ে কলকাতা লিগ সরগরম হয়ে ওঠে।
অঙ্কের হিসেব বলছিল একসঙ্গে পাঁচ-পাঁচটি দল লিগ জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিল। তিন প্রধান মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহমেডান তো বটেই, এমনকী ভবানীপুর ও ইউনাইটেড স্পোর্টিং এ দিন তাদের শেষ ম্যাচে লিগ জয়ের দৌড়ে ছিল। তাই এদিন শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলি সব একসঙ্গে, একই সময়ে শুরু করার ব্যবস্থা করে আয়োজক আইএফএ। যাতে গড়াপেটার সম্ভাবনা না থাকে।
শনিবার দুপুর তিনটেয় সব ম্যাচ একসঙ্গে শুরু হয়। অঙ্ক বলছিল, বারাসত স্টেডিয়ামে মোহনবাগান-মহামেডান ম্যাচটিই লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের ফয়সালা হওয়ার ক্ষেত্রে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে যদি ফয়সলা হয়ে যায়, অর্থাৎ যারা জিতবে তারাই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে। তবে যদি এই ম্যাচ ড্র হয়ে যায়, তা হলে অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে বাকি তিন দলও।
কিন্তু সেই অবকাশই দিল না মোহনবাগান। শনিবার ৩-২-এ মহমেডানকে হারিয়ে লিগ খেতাব অর্জন করে নেয় সবুজ-মেরুন বাহিনী। ২৬ ও ৬৪ মিনিটের মাথায় জোড়া গোল করেন সহাল আব্দুল সামাদ। কিন্তু কে জানত এ বছর ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগানে আসা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৭৪ মিনিটের গোলে শেষ পর্যন্ত লিগ খেতাব জিতে নেবে মোহনবাগান?
মহমেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে গোল করেন রেমসাঙ্গা ও মহীতোষ রায়। ৬০ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সবুজ-মেরুন গোলকিপার দীপপ্রভাত ঘোষকে। তখনও তারা এক গোলে পিছিয়ে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের বাকি ৩১ মিনিট দশজনে খেলে দু-দু’টি গোল করে বাজিমাত করে ফেলে। রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে নামা সায়ন ৬১ মিনিটের মাথায় মাঠে নেমে খেলার ছবিটাই পাল্টে দেন। তাই মোহনবাগানের এই সাফল্যের নায়কের মুকুট সায়নের মাথাতেই ওঠা উচিত।
যদিও মোহনবাগানের গোটা দলটাই এ দিন কলকাতা লিগ খেতাব জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ৬০ রোমহর্ষক ম্যাচ হয় ৯০ মিনিট এবং খেলার শেষে আরো প্রায় সাত মিনিটের সংযুক্ত সময়ে। ৬০ মিনিটের মাথায় মোহনবাগান দশ জন হয়ে যাওয়ার পর উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মহমেডান গোলসংখ্যা বাড়িয়ে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু সায়নের গোলের পর দশ সবুজ-মেরুন খেলোয়াড়ই নিজেদের গোলের সামনে কার্যত পাঁচিল তুলে দেন।
এ দিন অন্য ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল এফসি ৭-০-য় কোল ইন্ডিয়াকে হারায়। তবে মোহনবাগান জিতে যাওয়ায় এত বড় ব্যবধানে জিতেও তাদের কোনো লাভ হয়নি। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করেন মহম্মদ বিলাল, বিজয় মুর্মু (২), আকাশ হেমব্রম (২), তন্ময় দাস (পেনাল্টি) এবং উত্তম হাঁসদা। ভবানীপুর বনাম ইউনাইটেড ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়।
লিগের সুপার সিক্স পর্বের শেষে লিগ তালিকায় মোহনবাগান তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে রইল। ইস্টবেঙ্গল পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে। মহমেডান চার পয়েন্ট নিয়ে তিনে। পরের তিন স্থানে যথাক্রমে ভবানীপুর, ইউনাইটেড ও কোল ইন্ডিয়া।




