• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 29 September, 2026

নর্থ-ইস্টের কাছে আটকে গিয়েও শীর্ষে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, উপচে পড়ল গ্যালারি

আইএফএ শিল্ডের হাত ধরে যেন ফের প্রাণ ফিরে পেল কলকাতা ময়দান। মঙ্গলবার কাজের দিন, তার উপর ম্যাচ শুরু হয়েছিল দুপুর আড়াইটে।

নর্থ-ইস্টের কাছে আটকে গিয়েও শীর্ষে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, উপচে পড়ল গ্যালারি

আইএফএ শিল্ডের হাত ধরে যেন ফের প্রাণ ফিরে পেল কলকাতা ময়দান। মঙ্গলবার কাজের দিন, তার উপর ম্যাচ শুরু হয়েছিল দুপুর আড়াইটে। কিন্তু, তাতেও গোষ্ঠ পাল সরণি পর্যন্ত টিকিটের লম্বা লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো। শিল্ডে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট বনাম নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি ম্যাচে কার্যত কানায় কানায় ভর্তি থাকল মোহনবাগান গ্যালারি। কিন্তু সবুজ-মেরুনের খেলায় সেই উন্মাদনার প্রতিফলন দেখা গেল না। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে কোনও মতে গ্রুপ শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে উঠল মোহনবাগান। গোলপার্থক্যে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ চারে জায়গা করে নিল পাহাড়ের দলটিও।
ঘরের মাঠে প্রায় চারজন বিদেশিকে নিয়ে শুরু করেছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। সমীর জেলকোভিচ, আলবার্তো রডরিগেজ, দেজান দ্রাজিচ ও লি আরউইন ছিলেন এই ম্যাচের প্রথম একাদশে। এছাড়াও শুরু থেকে খেললেন লিস্টন কোলাসো, ছাংতেও। বিপরীতে নর্থইস্টের কোচ পেদ্রো বেনালি প্রথম একাদশে কোনও বিদেশিকে রাখেননি। তবু সেই ভারতীয় দলই বার বার সমস্যায় ফেলল মোহনবাগানকে।
শুরু থেকেই আক্রমণে উঠেছিল মোহনবাগান। ৯ মিনিটে সমীরের পাস পেয়ে দীপেশ চৌহানের মাথার উপর দিয়ে চিপ করেছিলেন আরউইন। বল চলে যায় বারের উপর দিয়ে। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ এল। কিন্তু গোল এল না। সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের আক্রমণে যেন তালমিলের অভাব বারবার চোখে পড়লো। যারফলে, পাহাড়ি দলটির ভারতীয় রক্ষণে প্রথমার্ধে বলার মতো কোনও আক্রমণই গড়ে তুলতে পারলেন না ছাংতে, লি আরউইন, সমীর জেলকোভিচ’রা।
এই অবস্থায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জোড়া বদল করেন কোচ মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিস। লিস্টন কোলাসো এবং সমীর জেলকোভিচকে তুলে তিনি মাঠে নামান জেমি ম্যাকলারেন ও মিগুয়েল ফিগুয়েরাকে। যার সুফল মিলল হাতে না হাতে। ৪৯ মিনিটে দ্রাজিচের লম্বা বল হেড করে নামিয়ে দেন ম্যাকলারেন। সেই বল পেয়ে গোল করেন নর্থইস্ট গোলরক্ষক দীপেশ চৌহানকে পরাস্ত করে গোল করে যান আরউইন। এই প্রসঙ্গে বলা যায়, সবুজ-মেরুন জার্সিতে প্রথম দু’ম্যাচেই গোল পেলেন স্কটিশ
এই স্ট্রাইকার।
১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণে দেখাতে থাকে মোহনবাগান। এই অবস্থায় খেলার ৭০ মিনিটে বক্সের ভিতর হ্যান্ডবল করলে পেনাল্টি পায় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। কিন্তু, মিগুয়েলের দুর্বল শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সহজেই বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক দীপেশ। এর তিন মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরালো নর্থইস্ট । মোহনবাগানের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে গোল করে যান ইথিয়ান গঞ্জালেজ।
ম্যাচ ১-১ হয়ে যাওয়ার পর শেষদিকে জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা করেন ছাংতে, সুহেল ভাট’রা। কিন্তু বিশেষ লাভ হয়নি। এইসময় মিগুয়েলের আরও একটি শট বাঁচান দীপেশ। এদিন, ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এসবের উল্টে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন ম্যাকলারেন। সেমিফাইনালের আগে যা চিন্তা বাড়াবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের।
পাশাপাশি, সেমিফাইনালের আগেও দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণে বোঝাপড়ার অভাব নিয়েও আলাদা ভাবে ভাবতে হবে প্যানাজিওটিসকে। সবমিলিয়ে ম্যাচ জিতলেও সেমিফাইনালের আগে খুব একটা স্বস্তিতে নেই সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।