বসন্তের খোলা হাওয়া এই মুহূর্তে মোহনবাগানে। আইএসএল ফুটবল শনিবার থেকে শুরু হয়ে গেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস ও কেরল ব্লাস্টার্সের লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড দাপটের সঙ্গে ২-০ গোলে জয় তুলে নিল প্রতিপক্ষ কেরলের বিরুদ্ধে। মোহনবাগানের প্রধান কোচ সার্জিও লোবেরা বলেছিলেন, ভালোবাসার দিনে সমর্থকদের কাছে জয় উপহার দেবেন। সেই কথা রাখলেন তিনি। জয়ের হাসিতে আইএসএল অভিযানে মোহনবাগানের সমর্থকরা সাক্ষী হয়ে রইলেন। খেলার শুরু থেকেই মোহনবাগান আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় কেরলকে। দলের ভরসা বলতেই সেই দিমিত্রি পেত্রাতোসের উপরেই সবার চোখ ছিল। এদিন তাঁকে মাঠে বেশ চনমনে দেখা গেল। খেলার পাঁচ মিনিটের মাথায় রবসন ও দিমিত্রি দুরন্ত ভূমিকা নিয়ে প্রতিপক্ষ দলের রক্ষণভাগকে তটস্থ রাখেন। খেলার ১২ মিনিটে লিস্টন কোলাসো গোল করার মতো সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বলটি ঠেলে দেন মাঠের বাইরে। ২৬ মিনিটের মাথায় কেরলও গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল।
কিন্তু সতর্ক ছিলেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। তারপরেই মোহনবাগানের আক্রমণ আরও ঝাঁঝালো হয়ে ওঠে। ৩১ মিনিটে লিস্টনের অনবদ্য ফ্রিকিক কেরলের গোলরক্ষক শচীন বাঁচিয়ে দেন। ৩৫ মিনিটে মোহনবাগানের হয়ে প্রথম গোলটি করেন জেমি ম্যাকলারেন। ম্যাকলারেনকে বলটি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন দিমিত্রি। ম্যাকলারেন কোনও ভুল করেননি গোলের জালে বলটি জড়িয়ে দিতে। এগিয়ে থাকা মোহনবাগান আরও উজ্জীবিত ফুটবল খেলতে থাকে। ৩৮ মিনিটে রবসনের শট অল্পের জন্য মাঠের বাইরে চলে যায়। এককথায় বলা যায়, দুই দলের গোলরক্ষকের তৎপরতায় খেলার চরিত্রে পরিবর্তন হয়নি।
Advertisement
দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান গতি পরিবর্তন করে প্রতিপক্ষের শিবিরে বারবার হানা দিতে থাকে। ৫২ মিনিটে ও ৬০ মিনিটে দিমিত্রি পেত্রাতোস যেভাবে বক্সের মধ্যে বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন গোল করার উদ্দেশ্যে, সেই জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছতে পারেননি তাঁর সতীর্থ খেলোয়াড়রা। কেরলের খেলোয়াড়রাও দুই-তিনটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন গোল পরিশোধ করার জন্য। কিন্তু তা সার্থক রূপ পায়নি। মোহনবাগানের রক্ষণভাগে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে শুভাশিস বসুকে দেখতে পাওয়া গেছে। দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্ত সময়ে মোহনবাগান দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায়। গোলটি করেন পরিবর্ত খেলোয়াড় টম আলড্রেড।
Advertisement
Advertisement



